বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং এর সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। এছাড়া আগামী রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, যদিও খুব বেশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছিল। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সে সময় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। ওই দুর্যোগে দেশের অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
এদিকে গত কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বুধবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন দেশের তিনটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
রিপোর্টার নাম: 























