Hi

১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই বছরের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া প্রস্তাব, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মন্ত্রিসভা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবনাটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে, যা এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ধাপগুলো চূড়ান্ত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতেই থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

গত ২৬ জুলাই অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেলের রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করে। জ্যেষ্ঠ দুই সরকারি কর্মকর্তার তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেই আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক দুর্দশা লাঘবের বিষয়টি এখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এই প্রস্তাবনার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তারা বেতনের বাইরেও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাই তাদের বেতন প্রাথমিকভাবে না বাড়লেও খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে সরকারের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে গত ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পরই চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবদের কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, তা মন্ত্রিসভাই চূড়ান্ত করবে।’

জনপ্রিয়

ইসলামি দর্শন কি কেবল গ্রিক অনুকরণ? নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে মোস্তফা আবদুর রাজ্জাকের বিশ্লেষণ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দুই বছরের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া প্রস্তাব, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মন্ত্রিসভা

আপডেট : ১০:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবনাটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে, যা এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ধাপগুলো চূড়ান্ত করার চূড়ান্ত ক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতেই থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

গত ২৬ জুলাই অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেলের রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করে। জ্যেষ্ঠ দুই সরকারি কর্মকর্তার তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেই আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক দুর্দশা লাঘবের বিষয়টি এখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এই প্রস্তাবনার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তারা বেতনের বাইরেও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাই তাদের বেতন প্রাথমিকভাবে না বাড়লেও খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে সরকারের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে গত ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পরই চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবদের কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, তা মন্ত্রিসভাই চূড়ান্ত করবে।’