Hi

০৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনার রূপসায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের

খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে দুর্বৃত্তের গুলিতে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। রূপসা ব্রিকস নামক ইটভাটায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই। স্থানীয়দের তথ্যমতে, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল ওই ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছেন। ফখরুল নিয়মিত ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সাথে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, যার জেরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইটভাটার অফিস রুমের পাশে অবস্থানকালে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। এতে তার ঘাড়ে একটি এবং ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি লাগে। ঘটনার খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ফখরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই ফরহাদ জানান, ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাতে মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

ফরহাদ আরও জানান, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ফখরুলের এক বন্ধু তাকে ফোন করে হামলার বিষয়টি জানান। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ফখরুলকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কারা বা কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করতে পারেননি। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

বেসরকারীকরণের জোয়ারে কি সংকটে দেশের কর্মসংস্থান ও শিল্প খাত?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খুলনার রূপসায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের

আপডেট : ০২:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে দুর্বৃত্তের গুলিতে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। রূপসা ব্রিকস নামক ইটভাটায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই। স্থানীয়দের তথ্যমতে, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল ওই ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছেন। ফখরুল নিয়মিত ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সাথে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, যার জেরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইটভাটার অফিস রুমের পাশে অবস্থানকালে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। এতে তার ঘাড়ে একটি এবং ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি লাগে। ঘটনার খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ফখরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই ফরহাদ জানান, ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাতে মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

ফরহাদ আরও জানান, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ফখরুলের এক বন্ধু তাকে ফোন করে হামলার বিষয়টি জানান। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ফখরুলকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কারা বা কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করতে পারেননি। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।