Hi

১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিহীনতার আড়ালে লুকানো মনস্তাত্ত্বিক সত্য: রাসকিন বন্ডের কালজয়ী ছোটগল্প ‘চোখ’

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

বিশ্বখ্যাত ভারতীয়-ইংরেজি সাহিত্যিক রাসকিন বন্ডের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত ছোটগল্প ‘দি আইজ হ্যাভ ইট’ (The Eyes Have It)। গল্পটি বাংলায় ‘চোখ’ শিরোনামে অনূদিত হয়ে বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে। দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং যোগাযোগের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আবেগঘনভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য গল্পটি বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

১৯৩৪ সালে ভারতের হিমাচল প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী রাসকিন বন্ড শৈশব থেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি বেড়ে উঠেছেন। সিমলায় পড়াশোনা শেষ করে খুব অল্প বয়সেই পেশাদার লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে মাসউরিতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত এই গুণী লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘দি রুম অন দি রুফ’ এবং অন্যতম আলোচিত ছোটগল্প ‘আ ফ্লাইট অব পিজনস’। পরবর্তী সময়ে তাঁর এই গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জুনুন’। বন্ডের রচনায় মানবমনের আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে ধরা দেয়।

‘চোখ’ গল্পটির কাহিনি গড়ে উঠেছে একটি ট্রেন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে। রোহানা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা এক দৃষ্টিহীন যুবক ও এক তরুণীর সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথের সংলাপই গল্পের মূল উপজীব্য। ট্রেনের একই কামরায় পাশাপাশি বসে যাত্রা করলেও গল্পের মূল চরিত্র বা কথক তরুণীটির কাছে নিজের দৃষ্টিহীনতার বিষয়টি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের এমন এক নিখুঁত ও কাল্পনিক বর্ণনা তুলে ধরেন, যেন তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। কথকের এই অভিনয় ও চাতুর্যের মুখে তরুণীটিও স্বাভাবিকভাবেই সংলাপ চালিয়ে যান এবং পাহাড়ি দৃশ্য ও বিশেষ করে অক্টোবরের মাসউরির সৌন্দর্য নিয়ে তাঁদের মধ্যে এক চমৎকার আবেগঘন কথোপকথন তৈরি হয়।

ভ্রমণশেষে তরুণীটি যখন শাহারানপুর স্টেশনে নেমে যান, তখন কথক তাঁর স্মৃতি ও চুলের সুবাস আঁকড়ে ধরে একা বসে থাকেন। তবে গল্পের চরম মোচড় আসে ঠিক এর পরেই। তরুণীর বিদায়ের পর কামরায় প্রবেশ করা নতুন এক যাত্রী কথককে জানান যে, চলে যাওয়া তরুণীটিও পুরোপুরি অন্ধ ছিলেন। নতুন যাত্রীটি তাঁর দৃষ্টিহীন চোখের বিষয়টি লক্ষ করলেও কথক পুরো যাত্রাপথেই তা বুঝতে পারেননি।

এই অপ্রত্যাশিত পরিণতি গল্পটিকে এক অনন্য মাত্রা দেয়। দুই দৃষ্টিহীন মানুষের একে অপরের কাছ থেকে নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করার এই চেষ্টা মানুষের অহংকার, আত্মসম্মান এবং একই সঙ্গে নিঃসঙ্গতার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, রাসকিন বন্ড এই গল্পের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় চোখ থেকেও মানুষ কাছের অনেক সত্য দেখতে পায় না, আবার দৃষ্টি না থেকেও কল্পনার শক্তিতে অনেকে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। বহুল পঠিত এই সাহিত্যকর্মটি আজও পাঠকদের হৃদয়ে এক গভীর আবেদন সৃষ্টি করে চলেছে।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ সেনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দৃষ্টিহীনতার আড়ালে লুকানো মনস্তাত্ত্বিক সত্য: রাসকিন বন্ডের কালজয়ী ছোটগল্প ‘চোখ’

আপডেট : ০৯:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বখ্যাত ভারতীয়-ইংরেজি সাহিত্যিক রাসকিন বন্ডের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত ছোটগল্প ‘দি আইজ হ্যাভ ইট’ (The Eyes Have It)। গল্পটি বাংলায় ‘চোখ’ শিরোনামে অনূদিত হয়ে বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে। দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং যোগাযোগের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আবেগঘনভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য গল্পটি বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

১৯৩৪ সালে ভারতের হিমাচল প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী রাসকিন বন্ড শৈশব থেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি বেড়ে উঠেছেন। সিমলায় পড়াশোনা শেষ করে খুব অল্প বয়সেই পেশাদার লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে মাসউরিতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত এই গুণী লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘দি রুম অন দি রুফ’ এবং অন্যতম আলোচিত ছোটগল্প ‘আ ফ্লাইট অব পিজনস’। পরবর্তী সময়ে তাঁর এই গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জুনুন’। বন্ডের রচনায় মানবমনের আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে ধরা দেয়।

‘চোখ’ গল্পটির কাহিনি গড়ে উঠেছে একটি ট্রেন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে। রোহানা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা এক দৃষ্টিহীন যুবক ও এক তরুণীর সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথের সংলাপই গল্পের মূল উপজীব্য। ট্রেনের একই কামরায় পাশাপাশি বসে যাত্রা করলেও গল্পের মূল চরিত্র বা কথক তরুণীটির কাছে নিজের দৃষ্টিহীনতার বিষয়টি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের এমন এক নিখুঁত ও কাল্পনিক বর্ণনা তুলে ধরেন, যেন তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। কথকের এই অভিনয় ও চাতুর্যের মুখে তরুণীটিও স্বাভাবিকভাবেই সংলাপ চালিয়ে যান এবং পাহাড়ি দৃশ্য ও বিশেষ করে অক্টোবরের মাসউরির সৌন্দর্য নিয়ে তাঁদের মধ্যে এক চমৎকার আবেগঘন কথোপকথন তৈরি হয়।

ভ্রমণশেষে তরুণীটি যখন শাহারানপুর স্টেশনে নেমে যান, তখন কথক তাঁর স্মৃতি ও চুলের সুবাস আঁকড়ে ধরে একা বসে থাকেন। তবে গল্পের চরম মোচড় আসে ঠিক এর পরেই। তরুণীর বিদায়ের পর কামরায় প্রবেশ করা নতুন এক যাত্রী কথককে জানান যে, চলে যাওয়া তরুণীটিও পুরোপুরি অন্ধ ছিলেন। নতুন যাত্রীটি তাঁর দৃষ্টিহীন চোখের বিষয়টি লক্ষ করলেও কথক পুরো যাত্রাপথেই তা বুঝতে পারেননি।

এই অপ্রত্যাশিত পরিণতি গল্পটিকে এক অনন্য মাত্রা দেয়। দুই দৃষ্টিহীন মানুষের একে অপরের কাছ থেকে নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করার এই চেষ্টা মানুষের অহংকার, আত্মসম্মান এবং একই সঙ্গে নিঃসঙ্গতার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, রাসকিন বন্ড এই গল্পের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় চোখ থেকেও মানুষ কাছের অনেক সত্য দেখতে পায় না, আবার দৃষ্টি না থেকেও কল্পনার শক্তিতে অনেকে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। বহুল পঠিত এই সাহিত্যকর্মটি আজও পাঠকদের হৃদয়ে এক গভীর আবেদন সৃষ্টি করে চলেছে।