Hi

০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে জুয়েলারি থেকে ১০০ ভরি স্বর্ণ গায়েব: কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটে অবস্থিত ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’-এ অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী রোমেন দে (৩৬) কৌশলে দোকানের সোনার চুড়ি সরিয়ে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রেখে দিয়েছিলেন। প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে কর্মরত রোমেনের ওপর দোকানের সোনার মজুতের হিসাব রাখার দায়িত্ব ছিল। গত ১৪ আগস্ট দুপুরে অন্য কর্মচারীরা হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান এবং মালিক বিপ্লব বসাককে বিষয়টি অবহিত করেন। মালিকের আগমন টের পেয়ে রোমেন ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ৫৫টি সোনার চুড়ি গায়েব এবং সেগুলোর জায়গায় ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি চুড়ির ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রোমেন দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, চুরি করা স্বর্ণালংকারগুলো তিনি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রেখে টাকা নিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার নগরের কোতোয়ালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন শ্যামল সিংহ (৪৭), জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)। শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ এসব তথ্য জানান। এ সময় পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার কাজী মো. বিধান আবিদ এবং পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ জানায়, রোমেন দে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ওই জুয়েলার্সে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রামে জুয়েলারি থেকে ১০০ ভরি স্বর্ণ গায়েব: কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ০৭:৫১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটে অবস্থিত ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’-এ অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী রোমেন দে (৩৬) কৌশলে দোকানের সোনার চুড়ি সরিয়ে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রেখে দিয়েছিলেন। প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে কর্মরত রোমেনের ওপর দোকানের সোনার মজুতের হিসাব রাখার দায়িত্ব ছিল। গত ১৪ আগস্ট দুপুরে অন্য কর্মচারীরা হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান এবং মালিক বিপ্লব বসাককে বিষয়টি অবহিত করেন। মালিকের আগমন টের পেয়ে রোমেন ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ৫৫টি সোনার চুড়ি গায়েব এবং সেগুলোর জায়গায় ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি চুড়ির ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রোমেন দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, চুরি করা স্বর্ণালংকারগুলো তিনি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রেখে টাকা নিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার নগরের কোতোয়ালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন শ্যামল সিংহ (৪৭), জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)। শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ এসব তথ্য জানান। এ সময় পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার কাজী মো. বিধান আবিদ এবং পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ জানায়, রোমেন দে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ওই জুয়েলার্সে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।