Hi

০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্র্যামি ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের পরিবেশনার ভিডিও অপসারণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে আলোচনা

বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএসের (BTS) দুটি জনপ্রিয় পরিবেশনার ভিডিও গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলার পর আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্র্যামির আয়োজক সংস্থা রেকর্ডিং একাডেমির অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে ব্যান্ডটির ২০২১ সালের আলোচিত গান ‘ডায়নামাইট’ এবং ২০২২ সালের ‘বাটার’-এর সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনার ভিডিও হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যান্ডটির বিশাল ভক্তকুল বা ‘আর্মি’ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই পদক্ষেপের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠছে।

গত ২৯ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার এই জনপ্রিয় সাত সদস্যের ব্যান্ড যৌথ এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেয় যে, তারা ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে কোনো গান জমা দেবে না। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, তারা এমন একটি সংস্কৃতি দেখতে চায় যেখানে ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানার ভিত্তিতে নয়, বরং সংগীতের নিজস্ব গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। এই যুগান্তকারী ঘোষণার ঠিক পরপরই ওয়েবসাইট থেকে তাদের জনপ্রিয় ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ভক্তদের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে রেকর্ডিং একাডেমির পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিটিএসের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত এবং গ্র্যামি কর্তৃপক্ষের ভিডিও অপসারণের বিষয়টি মূলত রেকর্ডিং একাডেমির সাম্প্রতিক একটি নতুন নিয়ম চালুর ফল। সম্প্রতি সংস্থাটি ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ নামক একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ বিটিএসের আসন্ন নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর সিংহভাগ গানই ইংরেজি ভাষায় রচিত। সমালোচকদের জোরালো দাবি, এ ধরনের সংকীর্ণ নিয়মের কারণে এশীয় শিল্পীরা ‘সং অব দ্য ইয়ার’ বা অ্যালবামের মতো মূলধারার মর্যাদাপূর্ণ বিভাগগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিটিএসের এই সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক ও করপোরেট ব্যক্তিত্বরাও এগিয়ে এসেছেন। হুন্দাই কার্ডের প্রধান নির্বাহী টেড চুংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন এশীয় শিল্পীদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্যাড বানি বা রিকি মার্টিনের মতো লাতিন শিল্পীদের কি কেবল লাতিন সংগীত বিভাগেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়? ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে খণ্ডিত করার এমন নজির বিশ্বে বিরল।

অন্যদিকে, রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র বিটিএসের গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বললেও এর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি দৃশ্যমানতা ও স্বীকৃতি দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, সংগীতাঙ্গনের বহু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, অঞ্চলভিত্তিক এমন পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া পশ্চিমা মূলধারার বাইরে থাকা শিল্পীদের প্রকৃত বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথকে আরও বেশি সংকুচিত করে দিতে পারে।

জনপ্রিয়

তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটছে: রুহুল কবির রিজভী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গ্র্যামি ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের পরিবেশনার ভিডিও অপসারণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে আলোচনা

আপডেট : ০১:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএসের (BTS) দুটি জনপ্রিয় পরিবেশনার ভিডিও গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলার পর আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্র্যামির আয়োজক সংস্থা রেকর্ডিং একাডেমির অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে ব্যান্ডটির ২০২১ সালের আলোচিত গান ‘ডায়নামাইট’ এবং ২০২২ সালের ‘বাটার’-এর সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনার ভিডিও হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যান্ডটির বিশাল ভক্তকুল বা ‘আর্মি’ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই পদক্ষেপের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠছে।

গত ২৯ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার এই জনপ্রিয় সাত সদস্যের ব্যান্ড যৌথ এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেয় যে, তারা ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে কোনো গান জমা দেবে না। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, তারা এমন একটি সংস্কৃতি দেখতে চায় যেখানে ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানার ভিত্তিতে নয়, বরং সংগীতের নিজস্ব গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। এই যুগান্তকারী ঘোষণার ঠিক পরপরই ওয়েবসাইট থেকে তাদের জনপ্রিয় ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ভক্তদের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে রেকর্ডিং একাডেমির পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিটিএসের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত এবং গ্র্যামি কর্তৃপক্ষের ভিডিও অপসারণের বিষয়টি মূলত রেকর্ডিং একাডেমির সাম্প্রতিক একটি নতুন নিয়ম চালুর ফল। সম্প্রতি সংস্থাটি ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ নামক একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ বিটিএসের আসন্ন নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর সিংহভাগ গানই ইংরেজি ভাষায় রচিত। সমালোচকদের জোরালো দাবি, এ ধরনের সংকীর্ণ নিয়মের কারণে এশীয় শিল্পীরা ‘সং অব দ্য ইয়ার’ বা অ্যালবামের মতো মূলধারার মর্যাদাপূর্ণ বিভাগগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিটিএসের এই সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক ও করপোরেট ব্যক্তিত্বরাও এগিয়ে এসেছেন। হুন্দাই কার্ডের প্রধান নির্বাহী টেড চুংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন এশীয় শিল্পীদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্যাড বানি বা রিকি মার্টিনের মতো লাতিন শিল্পীদের কি কেবল লাতিন সংগীত বিভাগেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়? ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে খণ্ডিত করার এমন নজির বিশ্বে বিরল।

অন্যদিকে, রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র বিটিএসের গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বললেও এর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি দৃশ্যমানতা ও স্বীকৃতি দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, সংগীতাঙ্গনের বহু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, অঞ্চলভিত্তিক এমন পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া পশ্চিমা মূলধারার বাইরে থাকা শিল্পীদের প্রকৃত বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথকে আরও বেশি সংকুচিত করে দিতে পারে।