Hi

১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারখানা বন্ধের খবর অপপ্রচার, ছুটি ও কর্মঘণ্টা সমন্বয় করছে পোশাক খাত: বিজিএমইএ

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ডিবিএল গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তবে এই ধরনের সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি কারকদের সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি, বরং সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে কারখানাগুলোতে প্রশাসনিকভাবে ছুটি ও কর্মঘণ্টা সমন্বয় করা হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মূলধারার গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপসহ একাধিক কারখানা বন্ধের খবর নজরে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সর্ববৃহৎ এই রপ্তানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সরকারের সহায়তায় পোশাকমালিকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত অধিকাংশ কারখানা নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ছুটি এবং কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণের কৌশল সম্পর্কে বিজিএমইএ জানায়, আসন্ন ৫ আগস্টের সরকারি ছুটি এবং নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি একসূত্রে গেঁথে অনেক কারখানা বৃহস্পতিবার কাজ বন্ধ রাখছে। শ্রম আইন ও বিধি অনুসরণ করে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে এই ছুটির দিনটি কাজের দিন হিসেবে সমন্বয় করে নেওয়া হবে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প উৎপাদন সচল রাখার এটি একটি স্বাভাবিক ও সাময়িক কৌশল মাত্র। একে স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হিসেবে প্রচার করা মারাত্মক ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই ধরনের সংবাদের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বিজিএমইএ মন্তব্য করে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই না করে কারখানা বন্ধের মতো স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যায়, যা বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে। এই খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করছে দেশের কোটি মানুষের অর্থনীতি ও লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকের জীবিকা। তাই যেকোনো অনির্ভরযোগ্য গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

পরিস্থিতির বিচারে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গণমাধ্যমকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাইয়ের সংস্কৃতি বজায় রাখার জোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

জনপ্রিয়

অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন নাহিদ, তাসকিনের গোড়ালির অস্ত্রোপচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কারখানা বন্ধের খবর অপপ্রচার, ছুটি ও কর্মঘণ্টা সমন্বয় করছে পোশাক খাত: বিজিএমইএ

আপডেট : ০৭:২৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ডিবিএল গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তবে এই ধরনের সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি কারকদের সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি, বরং সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে কারখানাগুলোতে প্রশাসনিকভাবে ছুটি ও কর্মঘণ্টা সমন্বয় করা হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মূলধারার গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপসহ একাধিক কারখানা বন্ধের খবর নজরে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সর্ববৃহৎ এই রপ্তানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সরকারের সহায়তায় পোশাকমালিকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত অধিকাংশ কারখানা নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ছুটি এবং কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণের কৌশল সম্পর্কে বিজিএমইএ জানায়, আসন্ন ৫ আগস্টের সরকারি ছুটি এবং নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি একসূত্রে গেঁথে অনেক কারখানা বৃহস্পতিবার কাজ বন্ধ রাখছে। শ্রম আইন ও বিধি অনুসরণ করে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে এই ছুটির দিনটি কাজের দিন হিসেবে সমন্বয় করে নেওয়া হবে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প উৎপাদন সচল রাখার এটি একটি স্বাভাবিক ও সাময়িক কৌশল মাত্র। একে স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হিসেবে প্রচার করা মারাত্মক ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই ধরনের সংবাদের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বিজিএমইএ মন্তব্য করে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই না করে কারখানা বন্ধের মতো স্পর্শকাতর সংবাদ প্রচার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যায়, যা বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে। এই খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করছে দেশের কোটি মানুষের অর্থনীতি ও লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকের জীবিকা। তাই যেকোনো অনির্ভরযোগ্য গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকের কর্মসংস্থানকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

পরিস্থিতির বিচারে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গণমাধ্যমকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাইয়ের সংস্কৃতি বজায় রাখার জোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।