Hi

১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের ৪ কোম্পানি ও ৩ নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি কোম্পানি এবং তিন ভারতীয় নাগরিকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ইরানি তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ওয়াশিংটন এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তেহরানের বৈশ্বিক রাজস্ব প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের চলমান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতীস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামের আরও দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পণ্য আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তিন কোম্পানির মোট আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা চতুর্থ প্রতিষ্ঠানটি হলো ভারতভিত্তিক কাস্টমস ব্রোকার পোর্টইজ পার্টনার্স এলএলপি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের একাধিক চালান ভারতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিন ভারতীয় নাগরিককেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তারা হলেন পিপি সফটটেকের পরিচালক প্রশান্ত গার্গ এবং পোর্টইজ পার্টনার্সের সঙ্গে যুক্ত ইদ্রিস মিয়া আশারাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ইরানি সরকারের ওপর ‘ফাঁস আরও শক্ত করা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক যোগাযোগ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার যে নীতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক সংযোগের বিরুদ্ধে তাদের ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব চালানের কয়েকটি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেটিকে এর আগে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিল।

জনপ্রিয়

ঢাকায় ভুটানের রাজার সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানের তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের ৪ কোম্পানি ও ৩ নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১০:২০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি কোম্পানি এবং তিন ভারতীয় নাগরিকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ইরানি তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ওয়াশিংটন এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তেহরানের বৈশ্বিক রাজস্ব প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের চলমান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতীস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামের আরও দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পণ্য আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তিন কোম্পানির মোট আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা চতুর্থ প্রতিষ্ঠানটি হলো ভারতভিত্তিক কাস্টমস ব্রোকার পোর্টইজ পার্টনার্স এলএলপি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের একাধিক চালান ভারতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিন ভারতীয় নাগরিককেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তারা হলেন পিপি সফটটেকের পরিচালক প্রশান্ত গার্গ এবং পোর্টইজ পার্টনার্সের সঙ্গে যুক্ত ইদ্রিস মিয়া আশারাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ইরানি সরকারের ওপর ‘ফাঁস আরও শক্ত করা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক যোগাযোগ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার যে নীতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক সংযোগের বিরুদ্ধে তাদের ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব চালানের কয়েকটি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেটিকে এর আগে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিল।