Hi

০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন নাহিদ, তাসকিনের গোড়ালির অস্ত্রোপচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতি তারকা নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। সম্প্রতি সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়া এই তরুণ পেসারের মূলত শিনবোনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে না গিয়ে শুধু পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পার্থে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিক্যাল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নাহিদ দেশে ফিরলেও শিনবোনের ব্যথার নেপথ্য কারণ ও চূড়ান্ত রোগনির্ণয় জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পার্থে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন স্ক্যান ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে বিসিবির। এরপরই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। সাইড স্ট্রেইনের সমস্যাটি সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের বিশ্রামে এমনিতেই নিরাময় হয়ে যায়, তবে শিনবোনের চোট নিয়ে কিছুটা সতর্ক থাকতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

অন্যদিকে, দলের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ বর্তমানে ডারউইনে অবস্থান করছেন এবং টেস্ট দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার পাশাপাশি তাসকিনকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগাচ্ছে তার ডান পায়ের গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার সমস্যা। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য এ ধরনের শারীরিক জটিলতা বেশ অস্বস্তিকর এবং অনেক সময় তা পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হওয়া এই তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অস্ত্রোপচার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও, চিকিৎসকরা এবং স্বয়ং তাসকিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাসকিনের বর্তমান বয়স ৩১ বছর, যা একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ারের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পর্যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হলে তা থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এবং পুনরায় মাঠে ফিরতে প্রায় এক বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচার সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে না, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

ফলস্বরূপ, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি এড়িয়ে প্রচলিত বিকল্প চিকিৎসা ও রক্ষণশীল উপায়েই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শও এর বাইরে কিছু ছিল না। যার অর্থ দাঁড়ায়, ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও তাকে বিশেষ সতর্কতা ও শারীরিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মাঠে নামতে হবে। কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে তাকে দীর্ঘ স্পেল বল করার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হয়। এমনকি খেলার মাঝে ফিল্ডিংয়ের সময়ও অধিনায়ককে কৌশলগতভাবে তার পজিশন নির্ধারণ করতে হয় যাতে অতিরিক্ত ধকল এড়ানো যায়। তাসকিনের এই বিশেষ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নরম জুতা ব্যবহার, গোড়ালির স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য জুতার ভেতরে হিল কুশন রাখা এবং প্রয়োজনে জুতার অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বিশেষ পরিবর্তন আনার মতো কৌশলগুলোই এখন তার প্রধান ‘ওষুধ’ হিসেবে কাজ করছে। এই নিয়মের বাইরে গিয়ে পেশাদার ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া তাসকিনের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত।

এদিকে ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসা ও দল পরিচালনা প্যানেল দেশের পেস আক্রমণকে দীর্ঘমেয়াদে ফিট রাখতে সব ধরনের আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নাহিদ রানার শিনবোনের ব্যথার সঠিক কারণ উদঘাটিত হলে তরুণ এই পেসারকে খুব দ্রুতই একটি পরিকল্পিত রিহ্যাভ প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করতে এই দুই বোলারের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মাঝে পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিসিবির চলমান এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে দলের মূল পেসারদের এমন ইনজুরি আপডেট ও তার ব্যবস্থাপনা দলের কৌশলগত পরিকল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

ফ্যাশন ও অভিনয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন আশনা হাবিব ভাবনা, জন্মদিনে বিশেষ ঝলক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন নাহিদ, তাসকিনের গোড়ালির অস্ত্রোপচার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১০:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতি তারকা নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। সম্প্রতি সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়া এই তরুণ পেসারের মূলত শিনবোনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে না গিয়ে শুধু পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পার্থে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিক্যাল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নাহিদ দেশে ফিরলেও শিনবোনের ব্যথার নেপথ্য কারণ ও চূড়ান্ত রোগনির্ণয় জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পার্থে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন স্ক্যান ও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে বিসিবির। এরপরই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। সাইড স্ট্রেইনের সমস্যাটি সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের বিশ্রামে এমনিতেই নিরাময় হয়ে যায়, তবে শিনবোনের চোট নিয়ে কিছুটা সতর্ক থাকতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

অন্যদিকে, দলের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ বর্তমানে ডারউইনে অবস্থান করছেন এবং টেস্ট দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার পাশাপাশি তাসকিনকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগাচ্ছে তার ডান পায়ের গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার সমস্যা। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য এ ধরনের শারীরিক জটিলতা বেশ অস্বস্তিকর এবং অনেক সময় তা পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হওয়া এই তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অস্ত্রোপচার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও, চিকিৎসকরা এবং স্বয়ং তাসকিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাসকিনের বর্তমান বয়স ৩১ বছর, যা একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ারের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পর্যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হলে তা থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এবং পুনরায় মাঠে ফিরতে প্রায় এক বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচার সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে না, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

ফলস্বরূপ, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি এড়িয়ে প্রচলিত বিকল্প চিকিৎসা ও রক্ষণশীল উপায়েই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শও এর বাইরে কিছু ছিল না। যার অর্থ দাঁড়ায়, ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও তাকে বিশেষ সতর্কতা ও শারীরিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মাঠে নামতে হবে। কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে তাকে দীর্ঘ স্পেল বল করার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হয়। এমনকি খেলার মাঝে ফিল্ডিংয়ের সময়ও অধিনায়ককে কৌশলগতভাবে তার পজিশন নির্ধারণ করতে হয় যাতে অতিরিক্ত ধকল এড়ানো যায়। তাসকিনের এই বিশেষ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নরম জুতা ব্যবহার, গোড়ালির স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য জুতার ভেতরে হিল কুশন রাখা এবং প্রয়োজনে জুতার অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বিশেষ পরিবর্তন আনার মতো কৌশলগুলোই এখন তার প্রধান ‘ওষুধ’ হিসেবে কাজ করছে। এই নিয়মের বাইরে গিয়ে পেশাদার ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া তাসকিনের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত।

এদিকে ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসা ও দল পরিচালনা প্যানেল দেশের পেস আক্রমণকে দীর্ঘমেয়াদে ফিট রাখতে সব ধরনের আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নাহিদ রানার শিনবোনের ব্যথার সঠিক কারণ উদঘাটিত হলে তরুণ এই পেসারকে খুব দ্রুতই একটি পরিকল্পিত রিহ্যাভ প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করতে এই দুই বোলারের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মাঝে পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিসিবির চলমান এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে দলের মূল পেসারদের এমন ইনজুরি আপডেট ও তার ব্যবস্থাপনা দলের কৌশলগত পরিকল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।