Hi

১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরের বাড়তি শেওলাই এখন আয়ের উৎস ও মাছের খাবার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

সাতক্ষীরার দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার মাছের ঘেরগুলোতে এখন এক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ঘেরের পানিতে জন্মানো অতিরিক্ত শেওলা পরিষ্কার করে তা অন্য ঘেরের মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। গত শুক্রবার দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়নের শশাডাঙ্গা গ্রামে দেখা যায়, কোমরপানিতে নেমে শ্রমিকেরা থার্মোকলের তৈরি বিশেষ ভেলায় করে শেওলা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়ভাবে এই শেওলাকে ‘কাটা শেলা’ বলা হয়।

ঘেরের মালিক রাজকুমার গাইন জানান, ঘেরে শেওলার আধিক্য মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তাই ঘের পরিষ্কারের পাশাপাশি এই শেওলা বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করছেন। সাধারণত এক ভ্যান শেওলা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। খলিলুর রহমান নামের আরেক ঘের মালিক জানান, তার ১২ বিঘার ঘের থেকে সংগৃহীত এক ভ্যান শেওলা তিনি ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই শেওলা মূলত রুই, গ্রাস কার্প ও মৃগেলের মতো সাদা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমিনুর রহমান নামের এক মাছ চাষি জানান, তিনি তার ঘেরের মাছের খাবারের জোগান দিতেই এই শেওলা কিনে থাকেন।

শেওলা সংগ্রহ ও বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি দেবহাটার পারুলিয়া ও আশাশুনির মহেশ্বরকাটি এলাকাতেও বেশ জনপ্রিয়। আবু সাঈদ নামের এক শ্রমিক জানান, নোনাপানির ঘের থেকে শেওলা সংগ্রহ করে তিনি মিষ্টিপানির সাদা মাছের ঘেরের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস এই কাজে যুক্ত থেকে তিনি দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। শীতকালে শেওলার পরিমাণ কমে গেলে তিনি অন্য দিনমজুরির কাজ করেন। লুৎফর রহমান নামের আরেক শ্রমিক জানান, ঘেরের অতিরিক্ত শেওলা পরিষ্কার করা জরুরি, যা এখন অনেকের আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

চিংড়ি চাষিদের জন্য এই শেওলা অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসায়ী অজিয়ার রহমান জানান, তার ১৫ বিঘা জমির চিংড়ি ঘেরে শেওলা বেশি হলে পোনার চলাচলে সমস্যা হয় এবং মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বলেন, অতিরিক্ত শেওলা চিংড়ির চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশে বিঘ্ন ঘটায়, যা প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাই ঘের পরিষ্কার রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই শেওলা যদি অন্য মাছের ঘেরে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা ঘের পরিষ্কারের পাশাপাশি মাছের খাদ্যের চাহিদাও পূরণ করে, যা একটি ইতিবাচক দিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানির ওপর ভাসছে বিছানার মতো চ্যাপটা একটি ভেলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীল জালের ভেতর থার্মোকলের (হালকা, সাদা ফোমজাতীয় পদার্থ) টুকরা দিয়ে বানানো সেই ভেলার ওপর স্তূপ হয়ে আছে কাদামাখা সবুজ শেওলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোমরপানিতে নেমে এক শ্রমিক ভেলাটি টেনে নিচ্ছেন, আরেকজন পানি থেকে শেওলা তুলে রাখছেন তাতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটু দূরে একই কাজে ব্যস্ত আরও কয়েকজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দূর থেকে মনে হতে পারে, মাছের ঘের পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাছে গেলে বোঝা যায়, সেখানে চলছে অন্য রকম এক জীবিকার আয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘেরের মাঝখান দিয়ে সরু পাড়, পাড় ঘেঁষে গ্রামের সড়ক।

জনপ্রিয়

ঢাকায় ভুটানের রাজার সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরের বাড়তি শেওলাই এখন আয়ের উৎস ও মাছের খাবার

আপডেট : ১০:২২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার মাছের ঘেরগুলোতে এখন এক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ঘেরের পানিতে জন্মানো অতিরিক্ত শেওলা পরিষ্কার করে তা অন্য ঘেরের মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। গত শুক্রবার দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়নের শশাডাঙ্গা গ্রামে দেখা যায়, কোমরপানিতে নেমে শ্রমিকেরা থার্মোকলের তৈরি বিশেষ ভেলায় করে শেওলা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়ভাবে এই শেওলাকে ‘কাটা শেলা’ বলা হয়।

ঘেরের মালিক রাজকুমার গাইন জানান, ঘেরে শেওলার আধিক্য মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তাই ঘের পরিষ্কারের পাশাপাশি এই শেওলা বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করছেন। সাধারণত এক ভ্যান শেওলা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। খলিলুর রহমান নামের আরেক ঘের মালিক জানান, তার ১২ বিঘার ঘের থেকে সংগৃহীত এক ভ্যান শেওলা তিনি ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই শেওলা মূলত রুই, গ্রাস কার্প ও মৃগেলের মতো সাদা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমিনুর রহমান নামের এক মাছ চাষি জানান, তিনি তার ঘেরের মাছের খাবারের জোগান দিতেই এই শেওলা কিনে থাকেন।

শেওলা সংগ্রহ ও বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি দেবহাটার পারুলিয়া ও আশাশুনির মহেশ্বরকাটি এলাকাতেও বেশ জনপ্রিয়। আবু সাঈদ নামের এক শ্রমিক জানান, নোনাপানির ঘের থেকে শেওলা সংগ্রহ করে তিনি মিষ্টিপানির সাদা মাছের ঘেরের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস এই কাজে যুক্ত থেকে তিনি দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। শীতকালে শেওলার পরিমাণ কমে গেলে তিনি অন্য দিনমজুরির কাজ করেন। লুৎফর রহমান নামের আরেক শ্রমিক জানান, ঘেরের অতিরিক্ত শেওলা পরিষ্কার করা জরুরি, যা এখন অনেকের আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

চিংড়ি চাষিদের জন্য এই শেওলা অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসায়ী অজিয়ার রহমান জানান, তার ১৫ বিঘা জমির চিংড়ি ঘেরে শেওলা বেশি হলে পোনার চলাচলে সমস্যা হয় এবং মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বলেন, অতিরিক্ত শেওলা চিংড়ির চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশে বিঘ্ন ঘটায়, যা প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাই ঘের পরিষ্কার রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই শেওলা যদি অন্য মাছের ঘেরে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা ঘের পরিষ্কারের পাশাপাশি মাছের খাদ্যের চাহিদাও পূরণ করে, যা একটি ইতিবাচক দিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানির ওপর ভাসছে বিছানার মতো চ্যাপটা একটি ভেলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীল জালের ভেতর থার্মোকলের (হালকা, সাদা ফোমজাতীয় পদার্থ) টুকরা দিয়ে বানানো সেই ভেলার ওপর স্তূপ হয়ে আছে কাদামাখা সবুজ শেওলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোমরপানিতে নেমে এক শ্রমিক ভেলাটি টেনে নিচ্ছেন, আরেকজন পানি থেকে শেওলা তুলে রাখছেন তাতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটু দূরে একই কাজে ব্যস্ত আরও কয়েকজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দূর থেকে মনে হতে পারে, মাছের ঘের পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাছে গেলে বোঝা যায়, সেখানে চলছে অন্য রকম এক জীবিকার আয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘেরের মাঝখান দিয়ে সরু পাড়, পাড় ঘেঁষে গ্রামের সড়ক।