মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সমতা ও সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। গত ২১-২২ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে উভয় দেশ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টদেরও সমান সুযোগ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এজেন্ট নির্বাচনের একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দেয়। গত ২১-২২ মে ২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩য় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল অন্য দেশের মতো একই সুযোগ প্রদান করার লক্ষ্যে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের মানদন্ড নির্ধারণ এবং তা বাংলাদেশকে। 21, 22, 2025, 28. সামগ্রিক সুবিধাদিসহ রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে- যেখানে আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ দিকনির্দেশনা মডিউল (Induction module) থাকতে হবে। এজেন্সির অনুকূলে পৃথক পৃথক ৫ জন আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সন্তোষজনকভাবে অভিবাসন কার্যক্রম সম্পাদানের প্রশংসাপত্র থাকতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়তে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামীতে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্টদেরও অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাছাই করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশের বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্টদের আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামীতে এসব অভিন্নভাবে মানদন্ডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মায়ানমারের রিক্রটিং এজেন্ট ঠিক করা হবে বলেও জানা গেছে। এমতাবস্থায়, উপরে বর্ণিত ‘নির্ধারিত সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া’ পূরণে সক্ষম বাংলাদেশের বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্টসমূহকে আগামী ০৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপরোল্লিখিত কাগজপত্রসহ আবেদন দাখিল করার জন্য। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।
নির্ধারিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্টদের যে দশটি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে তা হলো
- লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কমপক্ষে ৫ বছরের সন্তোষজনক কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- বিগত ৫ বছরে অন্তত ৩,০০০ কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রমাণক থাকতে হবে।
- বিগত ৫ বছরে ন্যূনতম তিনটি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও নিয়োগসহ অভিবাসন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে।
- কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সদাচরণের সনদ (Certificate of Good Conduct) জমা দিতে হবে।
- মানব পাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘন, অর্থ পাচার বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকা যাবে না।
- আবশ্যকীয় আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ইনডাকশন মডিউলসহ নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে।
- ন্যূনতম পাঁচজন আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কাজের প্রশংসাপত্র জমা দিতে হবে।
- কমপক্ষে ৩ বছর ধরে পরিচালিত ১০,০০০ বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট নিজস্ব স্থায়ী অফিস থাকতে হবে।
- মালয়েশিয়াসহ গন্তব্য দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়ার শর্তাবলি আইনসম্মতভাবে অনুসরণের প্রমাণক থাকতে হবে।
এই শর্তাবলি পূরণকারী এজেন্টদের তালিকাভুক্ত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার কর্মসংস্থান খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও জালিয়াতি রোধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সেখানে দায়িত্বরত নানা স্তরের প্রশাসনিক নির্দেশনাও কার্যকর করা হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 






















