Hi

০৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারিস ফ্যাশন উইক থেকে দেশের র‍্যাম্প: মডেল আজিম উদ্দৌলার সফলতার গল্প ও ফিটনেসের রহস্য

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা শীর্ষ মডেল আজিম উদ্দৌলা পার করেছেন মডেলিংয়ের এক যুগেরও বেশি পথচলা। ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। ২০১০ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড এক্সট্যাসির মাধ্যমে মডেলিং দুনিয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ক্যাটস আই, বাংলালিংক ও বিগ শেভিং রেজারসহ দেশের নামী-দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এই মডেল। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মানচিত্রে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে এক অনন্য গৌরব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজাইনার গ্রেস মুনের আমন্ত্রণে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুবার মর্যাদাপূর্ণ প্যারিস ফ্যাশন উইকের র‍্যাম্পে হেঁটেছেন আজিম, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া মিলান ও কলম্বো ফ্যাশন উইকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর সফল উপস্থিতি ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। দেশীয় ফ্যাশন বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের বাইরে মডেল ও ফটোগ্রাফাররা সুনির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে পেশাদারভাবে কাজ করলেও বাংলাদেশে এই কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ফলে স্থানীয় মডেলদের নিজেদের কাজ ও যোগাযোগ নিজেদেরই একক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন করতে হয়। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বর্তমানে নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘এ-জেড’ পরিচালনা করছেন তিনি, যা তাঁর উদ্যোক্তা সত্তার পরিচয় বহন করে। পেশাগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং এখানে ফিটনেস ও সৌন্দর্য বজায় রাখা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে নিখুঁত ও ফিট রাখতে কঠোর জীবনযাপন এবং সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করছেন আজিম। জিম করার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা এবং ফাস্টফুড কিংবা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলার অভ্যাস তাঁকে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিরিয়ানির মতো প্রিয় খাবার খাওয়ার পরদিন বাড়তি হাঁটা কিংবা হালকা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে পরিবার ও স্ত্রীর পূর্ণ সহযোগিতায় পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলেছেন এই তারকা মডেল। বর্তমান প্রজন্মের মডেলদের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, মডেলিংয়ের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বিকল্প ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং পড়ালেখা শেষ করা অত্যন্ত জরুরি, যা দীর্ঘমেয়াদী সফলতার পথ সুগম করে।

জনপ্রিয়

টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: ৬টি হাউসবোটের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্যারিস ফ্যাশন উইক থেকে দেশের র‍্যাম্প: মডেল আজিম উদ্দৌলার সফলতার গল্প ও ফিটনেসের রহস্য

আপডেট : ০৭:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা শীর্ষ মডেল আজিম উদ্দৌলা পার করেছেন মডেলিংয়ের এক যুগেরও বেশি পথচলা। ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। ২০১০ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড এক্সট্যাসির মাধ্যমে মডেলিং দুনিয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ক্যাটস আই, বাংলালিংক ও বিগ শেভিং রেজারসহ দেশের নামী-দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এই মডেল। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মানচিত্রে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে এক অনন্য গৌরব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজাইনার গ্রেস মুনের আমন্ত্রণে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুবার মর্যাদাপূর্ণ প্যারিস ফ্যাশন উইকের র‍্যাম্পে হেঁটেছেন আজিম, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া মিলান ও কলম্বো ফ্যাশন উইকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর সফল উপস্থিতি ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। দেশীয় ফ্যাশন বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের বাইরে মডেল ও ফটোগ্রাফাররা সুনির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে পেশাদারভাবে কাজ করলেও বাংলাদেশে এই কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ফলে স্থানীয় মডেলদের নিজেদের কাজ ও যোগাযোগ নিজেদেরই একক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন করতে হয়। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বর্তমানে নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘এ-জেড’ পরিচালনা করছেন তিনি, যা তাঁর উদ্যোক্তা সত্তার পরিচয় বহন করে। পেশাগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং এখানে ফিটনেস ও সৌন্দর্য বজায় রাখা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে নিখুঁত ও ফিট রাখতে কঠোর জীবনযাপন এবং সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করছেন আজিম। জিম করার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা এবং ফাস্টফুড কিংবা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলার অভ্যাস তাঁকে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিরিয়ানির মতো প্রিয় খাবার খাওয়ার পরদিন বাড়তি হাঁটা কিংবা হালকা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে পরিবার ও স্ত্রীর পূর্ণ সহযোগিতায় পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলেছেন এই তারকা মডেল। বর্তমান প্রজন্মের মডেলদের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, মডেলিংয়ের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বিকল্প ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং পড়ালেখা শেষ করা অত্যন্ত জরুরি, যা দীর্ঘমেয়াদী সফলতার পথ সুগম করে।