দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা, বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে মানসুরি, বেইত আল-সাইয়াদ এবং মাজদাল জউনের মতো এলাকাগুলোতে তীব্র গোলাবর্ষণ চালানো হয়। রাতভর চলা এসব হামলায় বেইত আল-সাইয়াদ গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এনএনএ-এর দাবি অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় কোনো বাড়িই এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি।
সংঘাতের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়েছে হাদাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকাতেও, যেখানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের আকাশসীমায় ইসরাইলি ড্রোন টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উত্তরে আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দাওহাত কাফর রেম্মান, দাবশা পাহাড় এবং আলি আল-তাহেরের বনাঞ্চলেও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে বলে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এ ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এর আগেও দক্ষিণ লেবাননে ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মিডল ইস্ট আই, আনাদুলু এজেন্সি, তার্কি টুডে ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যানুযায়ী, এই সামরিক কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলে মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
রিপোর্টার নাম: 























