Hi

০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী, দেওতলায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৮০টিতেই কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এমন নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। শিশুদের পাঠদানের কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টরসহ খোয়া যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের পরই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয়রা ভিড় করলে ভাঙা তালা ও আসবাবপত্র স্পর্শ না করার অনুরোধ করা হয়, তবে পরে দেখা যায় ঘটনাস্থল থেকে ভাঙা তালাটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের ধারণা, কোনো মাদকাসক্ত চক্র এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ৮০টিতে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে এলাকায় দুটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বা শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরির বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘের আল-কায়েদা বিষয়ক প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী, দেওতলায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ

আপডেট : ০৪:২০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৮০টিতেই কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এমন নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে। শিশুদের পাঠদানের কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টরসহ খোয়া যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের পরই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয়রা ভিড় করলে ভাঙা তালা ও আসবাবপত্র স্পর্শ না করার অনুরোধ করা হয়, তবে পরে দেখা যায় ঘটনাস্থল থেকে ভাঙা তালাটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের ধারণা, কোনো মাদকাসক্ত চক্র এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ৮০টিতে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে এলাকায় দুটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বা শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরির বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।