Hi

০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ, নিলেন ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:৪২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট খুব একটা দেখা যায় না। তবে সেই ধারায় ব্যতিক্রমী এক নাম হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আজ তিনি যা করলেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে প্রথমবার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারও স্পর্শ করেছেন এই ডানহাতি পেসার।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে হাসান নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি অন্তত দুবার ৫ উইকেট পাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, যা আজ বাস্তবে রূপ নিল। তিন সংস্করণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই প্রথম ৫ উইকেট শিকার। এর আগে টেস্টে মাশরাফি বিন মর্তুজার ৩, ওয়ানডেতে রুবেল হোসেনের ৪ এবং টি-টোয়েন্টিতে তাসকিন আহমেদের ৪ উইকেট ছিল সর্বোচ্চ। তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে হাসান এখন অনন্য উচ্চতায়।

ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না পেলেও দিনশেষে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করতে সক্ষম হয়েছে। হাসান শুরুটা করেছিলেন জেক ওয়েদারল্যান্ডকে ফিরিয়ে। এরপর ট্রাভিস হেডের উইকেটটিও তুলে নেন তিনি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ফিরে এসে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের উইকেট সংখ্যা চারে উন্নীত করেন।

চা বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আস্থার প্রতিদান দিয়ে হাসান পূর্ণ করেন নিজের ৫ উইকেট। তাঁর বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে স্টিভ স্মিথ ক্যাচ দিলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পরে নাথান লায়নকে আউট করে নিজের ৬ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি, যার প্রতিটিই এসেছে বিদেশের মাটিতে। এর আগে ২০২৪ সালে চেন্নাইয়ে ভারত ও রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও তাঁর ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন হাসানের দখলে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব অবশ্য তিনি একা নিতে নারাজ। ইনিংস বিরতিতে ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে হাসান বলেন, এটি একটি দারুণ সুযোগ ছিল। তিনি কেবল নিজের লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছেন।

হাসানের এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনও দারুণ চাপ বজায় রেখেছিলেন, যা বোলারদের সম্মিলিত সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। ডারউইনের এই পারফরম্যান্স হাসানের ক্যারিয়ারে নিশ্চিতভাবেই একটি বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে।

আজ যেমন করলেন—তাঁর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম কোনো বাংলাদেশি পেসারকে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিতে দেখা গেল।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাসান বলে গিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত দুবার ৫ উইকেট পেতে চান।

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রথম ইনিংসেই পেলেন ৬ উইকেট।

লাল বলে স্বপ্ন দেখা ক্রিকেটাররা কেমন হন?

কিন্তু হাসান মাহমুদ তাদের একজন কোনো সংশয় ছাড়াই।

অবশ্য শুধুই স্বপ্ন দেখেন বললে পুরোটা ফুটিয়ে তোলা যাবে না বোধ হয়, কারণ স্বপ্নপূরণও তো করেন।

ডারউইন টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় বাংলাদেশের স্বপ্নের মতো সময়ের সারথীও হাসান।

তাঁকে টানা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে গেছেন।

তাতে ওয়েদারল্যান্ড কখনো কখনো প্রলুব্ধও হয়েছেন, কিন্তু উইকেট আসেনি।

শেষ পর্যন্ত হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়েই ক্যাচ দেন।

৫ উইকেটের অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়নি হাসানের।

জনপ্রিয়

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ, নিলেন ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট

আপডেট : ১২:৪২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট খুব একটা দেখা যায় না। তবে সেই ধারায় ব্যতিক্রমী এক নাম হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আজ তিনি যা করলেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে প্রথমবার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারও স্পর্শ করেছেন এই ডানহাতি পেসার।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে হাসান নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি অন্তত দুবার ৫ উইকেট পাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, যা আজ বাস্তবে রূপ নিল। তিন সংস্করণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই প্রথম ৫ উইকেট শিকার। এর আগে টেস্টে মাশরাফি বিন মর্তুজার ৩, ওয়ানডেতে রুবেল হোসেনের ৪ এবং টি-টোয়েন্টিতে তাসকিন আহমেদের ৪ উইকেট ছিল সর্বোচ্চ। তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে হাসান এখন অনন্য উচ্চতায়।

ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না পেলেও দিনশেষে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করতে সক্ষম হয়েছে। হাসান শুরুটা করেছিলেন জেক ওয়েদারল্যান্ডকে ফিরিয়ে। এরপর ট্রাভিস হেডের উইকেটটিও তুলে নেন তিনি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ফিরে এসে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের উইকেট সংখ্যা চারে উন্নীত করেন।

চা বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আস্থার প্রতিদান দিয়ে হাসান পূর্ণ করেন নিজের ৫ উইকেট। তাঁর বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে স্টিভ স্মিথ ক্যাচ দিলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পরে নাথান লায়নকে আউট করে নিজের ৬ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি, যার প্রতিটিই এসেছে বিদেশের মাটিতে। এর আগে ২০২৪ সালে চেন্নাইয়ে ভারত ও রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও তাঁর ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন হাসানের দখলে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব অবশ্য তিনি একা নিতে নারাজ। ইনিংস বিরতিতে ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে হাসান বলেন, এটি একটি দারুণ সুযোগ ছিল। তিনি কেবল নিজের লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছেন।

হাসানের এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনও দারুণ চাপ বজায় রেখেছিলেন, যা বোলারদের সম্মিলিত সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। ডারউইনের এই পারফরম্যান্স হাসানের ক্যারিয়ারে নিশ্চিতভাবেই একটি বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে।

আজ যেমন করলেন—তাঁর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম কোনো বাংলাদেশি পেসারকে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিতে দেখা গেল।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাসান বলে গিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত দুবার ৫ উইকেট পেতে চান।

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রথম ইনিংসেই পেলেন ৬ উইকেট।

লাল বলে স্বপ্ন দেখা ক্রিকেটাররা কেমন হন?

কিন্তু হাসান মাহমুদ তাদের একজন কোনো সংশয় ছাড়াই।

অবশ্য শুধুই স্বপ্ন দেখেন বললে পুরোটা ফুটিয়ে তোলা যাবে না বোধ হয়, কারণ স্বপ্নপূরণও তো করেন।

ডারউইন টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় বাংলাদেশের স্বপ্নের মতো সময়ের সারথীও হাসান।

তাঁকে টানা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে গেছেন।

তাতে ওয়েদারল্যান্ড কখনো কখনো প্রলুব্ধও হয়েছেন, কিন্তু উইকেট আসেনি।

শেষ পর্যন্ত হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়েই ক্যাচ দেন।

৫ উইকেটের অপেক্ষাটা দীর্ঘ হয়নি হাসানের।