ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যে বয়সের সীমাবদ্ধতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন, তা আবারও প্রমাণ করলেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা। ৪১ বছর বয়সেও মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে তিনি নতুন এক ইতিহাস গড়লেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি কেবল দলকে সমতায় ফেরাননি, বরং নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত করেছেন এক নতুন পালক। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন।
দীর্ঘ ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহণের পর অবশেষে নকআউট রাউন্ডে গোলের দেখা পেলেন পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি। ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে এই গোল করার মধ্য দিয়ে তিনি বনে গেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও স্বদেশী ডিফেন্ডার পেপের দখলে, যিনি ৩৯ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। রোনালদোর এই অসামান্য অর্জন ক্রীড়ামোদীদের মনে আবারও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতা থাকলে বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, তা তিনি প্রতিটি মুহূর্তে প্রমাণ করে চলেছেন।
ক্লাব ফুটবলে আল নাসরের হয়ে নিয়মিত গোল করার অভ্যাসটি তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ধরে রেখেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকা খেলোয়াড় যখনই মাঠে নামেন, তখনই কোনো না কোনো রেকর্ডের হাতছানি থাকে তার সামনে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার এই গোলটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নিরলস সাধনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। মাঠের ভেতর তার ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তা এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থেকে গোল করার ক্ষমতা আজও বিশ্বের বাঘা বাঘা ডিফেন্ডারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর এই রেকর্ড ভাঙা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে কারো পক্ষে সহজ হবে না। শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং একইসঙ্গে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একজন অ্যাথলেটের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তবে রোনালদো বারবার প্রমাণ করেছেন যে, তিনি সাধারণের চেয়ে আলাদা। তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন পারফরম্যান্সের পর পর্তুগাল দল এখন তার অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে আরও বড় স্বপ্ন দেখছে।
রিপোর্টার নাম: 
























