Hi

১২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের লেনদেনে অতিরিক্ত এবং স্বেচ্ছাচারী সার্ভিস চার্জ আরোপ কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং খাতটিতে জবাবদিহি আনার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে অর্থ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মামলার বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উক্ত রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন সাকিব। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ। শুনানি চলাকালে রিটকারী আইনজীবী আদালতকে জানান, ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রবিধানমালার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই প্রবিধানমালা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ফি আদায় করে আসছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

রিট আবেদনের যুক্তি উপস্থাপনকালে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের চার্জের মধ্যকার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। শুনানিতে বলা হয়, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনলাইন বা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে এক লাখ টাকা লেনদেন করলে সাধারণত মাত্র ১০ টাকা চার্জ কাটা হয়। কিন্তু বিকাশ, রকেট বা নগদের ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রতি হাজারে নির্দিষ্ট হারে উচ্চ সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয়। এর ফলে এমএফএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এক লাখ টাকা লেনদেন বা ক্যাশ-আউট করতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে যায়, যা সাধারণ ব্যাংকিং সেবার তুলনায় বহুগুণ বেশি এবং অত্যন্ত বৈষম্যমূলক।

আইনজীবী ওবাইদুল্যাহ আল মামুন আরও জানান, এমএফএস প্রবিধানমালার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহজ এবং সাশ্রয়ী আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত উচ্চমাত্রার সার্ভিস চার্জ ২০২২ সালের প্রবিধানমালার প্রবিধান ২ ও ৯-এর সুস্পষ্ট পরিপন্থী। প্রবিধান অনুযায়ী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে উৎসাহিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছেন এই মাধ্যমে। তবে সুনির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতির সুযোগে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো চার্জ নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাইকোর্টের এই রুল নির্দেশনার ফলে মোবাইল ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিতের পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

টেকনাফে মানব পাচার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত উদ্যোগের জোর দাবি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০৮:২২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের লেনদেনে অতিরিক্ত এবং স্বেচ্ছাচারী সার্ভিস চার্জ আরোপ কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং খাতটিতে জবাবদিহি আনার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে অর্থ সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মামলার বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উক্ত রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন সাকিব। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ। শুনানি চলাকালে রিটকারী আইনজীবী আদালতকে জানান, ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রবিধানমালার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই প্রবিধানমালা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ফি আদায় করে আসছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

রিট আবেদনের যুক্তি উপস্থাপনকালে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের চার্জের মধ্যকার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। শুনানিতে বলা হয়, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনলাইন বা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে এক লাখ টাকা লেনদেন করলে সাধারণত মাত্র ১০ টাকা চার্জ কাটা হয়। কিন্তু বিকাশ, রকেট বা নগদের ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রতি হাজারে নির্দিষ্ট হারে উচ্চ সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয়। এর ফলে এমএফএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এক লাখ টাকা লেনদেন বা ক্যাশ-আউট করতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে যায়, যা সাধারণ ব্যাংকিং সেবার তুলনায় বহুগুণ বেশি এবং অত্যন্ত বৈষম্যমূলক।

আইনজীবী ওবাইদুল্যাহ আল মামুন আরও জানান, এমএফএস প্রবিধানমালার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহজ এবং সাশ্রয়ী আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত উচ্চমাত্রার সার্ভিস চার্জ ২০২২ সালের প্রবিধানমালার প্রবিধান ২ ও ৯-এর সুস্পষ্ট পরিপন্থী। প্রবিধান অনুযায়ী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে উৎসাহিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছেন এই মাধ্যমে। তবে সুনির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতির সুযোগে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো চার্জ নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাইকোর্টের এই রুল নির্দেশনার ফলে মোবাইল ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিতের পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।