Hi

০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টি নিলেন না লুকাকু, সতীর্থকে সুযোগ দিয়ে জয় নিশ্চিত করলেন বেলজিয়ামের তারকা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়ামের নাটকীয় জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘক্ষণ দাগ কেটে থাকবে। সিয়াটলের মাঠে ৩-২ গোলের এই জয়ে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক ছিলেন রোমেলু লুকাকু। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি পাওয়ার পর লুকাকুর আচরণ ছিল মানবিকতায় ভরপুর। দলের জয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সের হাতে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে ছিল লুকাকুর ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনার ইতিহাস। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫৮ বছর বয়সে লুকাকু তার বাবা রজার লুকাকুকে হারান। কঙ্গোর সাবেক এই ফুটবলারের মৃত্যু লুকাকুকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় লুকাকু জানান, বাবার বিয়োগান্তক স্মৃতি তাকে এখনো তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই তার কাছে মুখ্য ছিল। সেই মুহূর্তে নিজের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই তিনি পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ইউরি টিলেমান্সের ওপর ন্যস্ত করেন। লুকাকুর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ফুটবলের মাঠে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সংহতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা লুকাকুর এই আচরণে আবারও প্রমাণিত হলো।

চলতি বিশ্বকাপে লুকাকুর পারফরম্যান্স ছিল উত্থান-পতনের গল্প। নাপোলিতে গত মৌসুমে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে গোল করে তিনি জানান দিয়েছেন তার ফর্ম এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বিশেষ করে সেনেগালের বিপক্ষে গোল করার পর লুকাকু আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, স্বর্গ থেকে তার বাবাই তাকে প্রেরণা জোগাচ্ছেন।

সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই জয় বেলজিয়ামের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লুকাকুর মতে, সেনেগাল প্রযুক্তিগত এবং শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত অদম্য মানসিক শক্তি ও কৌশলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখে লড়াই করেছে। এই কঠিন জয় দল হিসেবে বেলজিয়ামকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আগামী ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় বেলজিয়ামের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। লুকাকুর এই মানবিক দৃষ্টান্ত কেবল ফুটবল মাঠের ঘটনা নয়, বরং খেলোয়াড়সুলভ আচরণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

কাতার মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: খামেনির দাফনের পর পরবর্তী বৈঠকের ইঙ্গিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টি নিলেন না লুকাকু, সতীর্থকে সুযোগ দিয়ে জয় নিশ্চিত করলেন বেলজিয়ামের তারকা

আপডেট : ০৯:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়ামের নাটকীয় জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘক্ষণ দাগ কেটে থাকবে। সিয়াটলের মাঠে ৩-২ গোলের এই জয়ে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক ছিলেন রোমেলু লুকাকু। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি পাওয়ার পর লুকাকুর আচরণ ছিল মানবিকতায় ভরপুর। দলের জয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সের হাতে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে ছিল লুকাকুর ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনার ইতিহাস। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫৮ বছর বয়সে লুকাকু তার বাবা রজার লুকাকুকে হারান। কঙ্গোর সাবেক এই ফুটবলারের মৃত্যু লুকাকুকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় লুকাকু জানান, বাবার বিয়োগান্তক স্মৃতি তাকে এখনো তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই তার কাছে মুখ্য ছিল। সেই মুহূর্তে নিজের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই তিনি পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ইউরি টিলেমান্সের ওপর ন্যস্ত করেন। লুকাকুর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ফুটবলের মাঠে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সংহতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা লুকাকুর এই আচরণে আবারও প্রমাণিত হলো।

চলতি বিশ্বকাপে লুকাকুর পারফরম্যান্স ছিল উত্থান-পতনের গল্প। নাপোলিতে গত মৌসুমে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে গোল করে তিনি জানান দিয়েছেন তার ফর্ম এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বিশেষ করে সেনেগালের বিপক্ষে গোল করার পর লুকাকু আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, স্বর্গ থেকে তার বাবাই তাকে প্রেরণা জোগাচ্ছেন।

সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই জয় বেলজিয়ামের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লুকাকুর মতে, সেনেগাল প্রযুক্তিগত এবং শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত অদম্য মানসিক শক্তি ও কৌশলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখে লড়াই করেছে। এই কঠিন জয় দল হিসেবে বেলজিয়ামকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আগামী ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় বেলজিয়ামের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। লুকাকুর এই মানবিক দৃষ্টান্ত কেবল ফুটবল মাঠের ঘটনা নয়, বরং খেলোয়াড়সুলভ আচরণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।