বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে মো. জামির উদ্দিন (৩১) ও রোকাইয়া আক্তার (৩০) নামের দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বগা লেক-কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকা থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দল কেওক্রাডং সড়কের দিকে রওনা দেয়। দলটির সঙ্গে একজন ট্যুর গাইডও যুক্ত ছিলেন। পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ শেষে ফেরার পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় অন্য পর্যটকরা নিরাপদে ফিরে এলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। যৌথ তল্লাশি চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সড়কের পাশে একটি গভীর পাহাড়ি খাদ থেকে মোটরসাইকেলসহ তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকাইয়া আক্তার পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার রাজপুর গ্রামের চুন্নু গাজীর মেয়ে এবং তিনি ঢাকার লালবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে মো. জামির উদ্দিন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মনিকা গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, খাড়া ও বিপদজনক পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত গতি বা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু বা আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পাহাড়ি অঞ্চলের আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যটক ও চালকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল ও দুর্গম এলাকায় অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 























