Hi

০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল মাঠে শিরোপা জয়ের পর গোল পোস্টের জাল কাটার নেপথ্যের ইতিহাস ও অজানা গল্প

  • ডেস্ক সংবাদ
  • আপডেট : ১০:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

বিশ্বকাপ কিংবা যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয় উল্লাসের সময় একটি পরিচিত দৃশ্য প্রায়ই ফুটবলপ্রেমীদের চোখে পড়ে। দলের খেলোয়াড়েরা যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন, তখন অনেককেই কাঁচি দিয়ে গোলপোস্টের জাল কাটতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বাড়িতে কি জালের অভাব রয়েছে যে, এভাবে গোলবারের ওপর উঠে ঝুলে জাল কেটে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে? মূলত এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং আধুনিক ফুটবল সংস্কৃতির একটি বিশেষ এবং আবেগময় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য বা ট্রেন্ডের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের এক অনন্য মানসিকতা।

খেলোয়াড়দের কাছে এই জাল কাটার বিষয়টি মূলত কোনো ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আজীবন ধরে রাখার মাধ্যম। কোথাও ঘুরতে গেলে যেমন মানুষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছবি তোলে বা ছোটখাটো স্মারক সংগ্রহ করে, ঠিক তেমনি ফুটবলাররাও তাঁদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জনকে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী রাখতে চান। যে গোলপোস্টে বল জড়িয়ে তাঁরা শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছেন, সেই জালের একটি অংশ নিজের সংগ্রহে রেখে দেওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের বিষয়। স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়া কিংবা সার্জিও রামোসের মতো তারকারাও অতীতে এই উদযাপনের অংশ হিসেবে গোলবারের জাল কেটে নিজেদের কাছে রেখেছেন।

ফুটবল মাঠে গোলপোস্টের জাল কেটে নিয়ে যাওয়ার এই বিশেষ ঐতিহ্যটি খুব বেশি দিন আগের নয়। এর সূচনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্পেনের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের নাম। ২০১১ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করার পর বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার প্রথম এমন অভিনব কায়দায় আনন্দ উদযাপন করেছিলেন। সেদিন ম্যাচ শেষে গোলপোস্টের জাল কেটে নিজের গায়ে জড়িয়ে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করেছিলেন পিকে। এরপর থেকে বার্সেলোনা বা স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে যেকোনো বড় ট্রফি জয়ের পরই তিনি সোজা গোলবারের দিকে চলে যেতেন এবং কাঁচি দিয়ে জাল কেটে বাড়ি নিয়ে যেতেন।

পিকের দেখাদেখি তাঁর সতীর্থ সার্জিও রামোসসহ অন্যান্য স্প্যানিশ ও বিশ্ব ফুটবলের তারকারাও এই ট্রেন্ড লুফে নেন। সময়ের সাথে সাথে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুধু ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেই নয়, ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল জেতার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে জাল কাটার এই হিড়িক দেখা যায়। একটি ঐতিহাসিক অর্জনের সাক্ষী হিসেবে গোলপোস্টের জালের টুকরোটি নিজের শোবার ঘরে বা ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ এক তৃপ্তির বিষয়। যখনই তাঁরা সেটির দিকে তাকান, ফিরে যান সেই সোনালী অতীতে, যেখানে তাঁরা বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন।

জনপ্রিয়

মনজুর আলম বেগের ফ্রেমে বন্দি যুদ্ধোত্তর ঢাকা: আলোকচিত্রে শিল্পের এক নতুন অন্বেষণ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফুটবল মাঠে শিরোপা জয়ের পর গোল পোস্টের জাল কাটার নেপথ্যের ইতিহাস ও অজানা গল্প

আপডেট : ১০:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ কিংবা যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয় উল্লাসের সময় একটি পরিচিত দৃশ্য প্রায়ই ফুটবলপ্রেমীদের চোখে পড়ে। দলের খেলোয়াড়েরা যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন, তখন অনেককেই কাঁচি দিয়ে গোলপোস্টের জাল কাটতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বাড়িতে কি জালের অভাব রয়েছে যে, এভাবে গোলবারের ওপর উঠে ঝুলে জাল কেটে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে? মূলত এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং আধুনিক ফুটবল সংস্কৃতির একটি বিশেষ এবং আবেগময় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য বা ট্রেন্ডের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের এক অনন্য মানসিকতা।

খেলোয়াড়দের কাছে এই জাল কাটার বিষয়টি মূলত কোনো ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আজীবন ধরে রাখার মাধ্যম। কোথাও ঘুরতে গেলে যেমন মানুষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছবি তোলে বা ছোটখাটো স্মারক সংগ্রহ করে, ঠিক তেমনি ফুটবলাররাও তাঁদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জনকে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী রাখতে চান। যে গোলপোস্টে বল জড়িয়ে তাঁরা শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছেন, সেই জালের একটি অংশ নিজের সংগ্রহে রেখে দেওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের বিষয়। স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়া কিংবা সার্জিও রামোসের মতো তারকারাও অতীতে এই উদযাপনের অংশ হিসেবে গোলবারের জাল কেটে নিজেদের কাছে রেখেছেন।

ফুটবল মাঠে গোলপোস্টের জাল কেটে নিয়ে যাওয়ার এই বিশেষ ঐতিহ্যটি খুব বেশি দিন আগের নয়। এর সূচনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্পেনের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের নাম। ২০১১ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করার পর বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার প্রথম এমন অভিনব কায়দায় আনন্দ উদযাপন করেছিলেন। সেদিন ম্যাচ শেষে গোলপোস্টের জাল কেটে নিজের গায়ে জড়িয়ে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করেছিলেন পিকে। এরপর থেকে বার্সেলোনা বা স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে যেকোনো বড় ট্রফি জয়ের পরই তিনি সোজা গোলবারের দিকে চলে যেতেন এবং কাঁচি দিয়ে জাল কেটে বাড়ি নিয়ে যেতেন।

পিকের দেখাদেখি তাঁর সতীর্থ সার্জিও রামোসসহ অন্যান্য স্প্যানিশ ও বিশ্ব ফুটবলের তারকারাও এই ট্রেন্ড লুফে নেন। সময়ের সাথে সাথে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুধু ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেই নয়, ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল জেতার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে জাল কাটার এই হিড়িক দেখা যায়। একটি ঐতিহাসিক অর্জনের সাক্ষী হিসেবে গোলপোস্টের জালের টুকরোটি নিজের শোবার ঘরে বা ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ এক তৃপ্তির বিষয়। যখনই তাঁরা সেটির দিকে তাকান, ফিরে যান সেই সোনালী অতীতে, যেখানে তাঁরা বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন।