Hi

০৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দুই খুতবার মাঝে খতিব কেন বসেন? ইসলামি বিধান ও তাৎপর্য

ইসলামি শরিয়তে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খুতবা। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় হয় না। জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য চুপ থাকা ওয়াজিব এবং এ সময় যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বা জিকির থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। নবী কারিম (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর কুবা মসজিদে প্রথম জুমার নামাজে ইমামতি করেন এবং তখন থেকেই দুটি খুতবা দেওয়ার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে পরবর্তীকালে খলিফা ও সাহাবিরাও এই রীতি বজায় রেখেছেন।

জুমার নামাজের খুতবা প্রদানের সময় দুটি খুতবার মাঝে খতিবের সংক্ষিপ্ত সময় বসে থাকার বিষয়টি একটি বিশেষ সুন্নাহ। সহিহ মুসলিমের ১৮৮০ নম্বর হাদিসে জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার আগে দুটি খুতবা দিতেন এবং উভয় খুতবার মাঝখানে কিছুক্ষণ বসতেন। ইসলামি স্কলার ও গবেষকগণ এই বসে থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, এটি মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহর হুবহু অনুসরণ। রাসূল (সা.) যেহেতু জুমার দুই খুতবার মাঝে বসতেন, তাই তাঁর অনুসারী হিসেবে খতিবদের জন্য এই সুন্নত পালন করা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, শারীরিক স্বস্তি ও খুতবার ধারাবাহিকতা রক্ষা। টানা দীর্ঘ বক্তব্য প্রদানের পর এই সংক্ষিপ্ত বিরতি খতিবের শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং শ্রোতাদের মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া, এটি দুটি খুতবার বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে আলাদা করতেও ভূমিকা রাখে।

তৃতীয়ত, অনেক আলেম মনে করেন, জুমার নামাজের খুতবা মূলত জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সাধারণ দিনগুলোতে জোহরের নামাজ চার রাকাত হলেও জুমার দিন তা দুই রাকাতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই দুই রাকাতের ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের মাধ্যম হিসেবে দুটি খুতবাকে গণ্য করা হয়। দুই খুতবার মাঝে বসার মাধ্যমে এই অংশ দুটিকে পৃথক করা হয়, যা জুমার নামাজের পূর্ণতা নিশ্চিত করে। পরিশেষে, জুমার খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের পূর্ণ মনোযোগী থাকা জরুরি, কারণ এই সময়টি ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচিত। খতিবের এই সংক্ষিপ্ত বিরতি কেবল একটি নিয়ম নয়, বরং এটি ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ যা খুতবার গাম্ভীর্য ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে আরও সুসংহত করে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় রিকশাচালককে রক্ষায় বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যাত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুমার দুই খুতবার মাঝে খতিব কেন বসেন? ইসলামি বিধান ও তাৎপর্য

আপডেট : ১২:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইসলামি শরিয়তে জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খুতবা। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় হয় না। জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য চুপ থাকা ওয়াজিব এবং এ সময় যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বা জিকির থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। নবী কারিম (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর কুবা মসজিদে প্রথম জুমার নামাজে ইমামতি করেন এবং তখন থেকেই দুটি খুতবা দেওয়ার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে পরবর্তীকালে খলিফা ও সাহাবিরাও এই রীতি বজায় রেখেছেন।

জুমার নামাজের খুতবা প্রদানের সময় দুটি খুতবার মাঝে খতিবের সংক্ষিপ্ত সময় বসে থাকার বিষয়টি একটি বিশেষ সুন্নাহ। সহিহ মুসলিমের ১৮৮০ নম্বর হাদিসে জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার আগে দুটি খুতবা দিতেন এবং উভয় খুতবার মাঝখানে কিছুক্ষণ বসতেন। ইসলামি স্কলার ও গবেষকগণ এই বসে থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, এটি মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহর হুবহু অনুসরণ। রাসূল (সা.) যেহেতু জুমার দুই খুতবার মাঝে বসতেন, তাই তাঁর অনুসারী হিসেবে খতিবদের জন্য এই সুন্নত পালন করা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, শারীরিক স্বস্তি ও খুতবার ধারাবাহিকতা রক্ষা। টানা দীর্ঘ বক্তব্য প্রদানের পর এই সংক্ষিপ্ত বিরতি খতিবের শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং শ্রোতাদের মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া, এটি দুটি খুতবার বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে আলাদা করতেও ভূমিকা রাখে।

তৃতীয়ত, অনেক আলেম মনে করেন, জুমার নামাজের খুতবা মূলত জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সাধারণ দিনগুলোতে জোহরের নামাজ চার রাকাত হলেও জুমার দিন তা দুই রাকাতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই দুই রাকাতের ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের মাধ্যম হিসেবে দুটি খুতবাকে গণ্য করা হয়। দুই খুতবার মাঝে বসার মাধ্যমে এই অংশ দুটিকে পৃথক করা হয়, যা জুমার নামাজের পূর্ণতা নিশ্চিত করে। পরিশেষে, জুমার খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের পূর্ণ মনোযোগী থাকা জরুরি, কারণ এই সময়টি ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচিত। খতিবের এই সংক্ষিপ্ত বিরতি কেবল একটি নিয়ম নয়, বরং এটি ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ যা খুতবার গাম্ভীর্য ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে আরও সুসংহত করে।