২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। বনানী থানায় দায়ের করা এই মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার দাবি করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে ভয়াবহ হামলা, গুলিবর্ষণ ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতায় উজ্জ্বল মিয়াসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভুক্তভোগী উজ্জ্বল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম আদালতের কাছে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই সহিংসতায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি একাধিক মামলায় জামিন লাভ করলেও, যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি পৃথক হত্যা মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। যদিও গত ৩০ জুন হাইকোর্ট যাত্রাবাড়ীর মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।
তবে এই ধারাবাহিক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। গত ১৭ মে হাইকোর্ট এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যেসব মামলায় এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়নি, সেসব মামলায় তাকে যেন নতুন করে গ্রেফতার দেখানো বা হয়রানি করা না হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিচারিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার সহিংস ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ৬ জুলাইয়ের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 











