Hi

০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোয়ান্টাম প্রযুক্তির অদূর ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত? ন্যাসডাকের তালিকায় আইকিউএম-এর অভিষেক

ফিনল্যান্ডভিত্তিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএম’ (IQM) সম্প্রতি ন্যাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে কোম্পানিটির এই যাত্রা শুরু হলেও, প্রযুক্তি বিশ্বে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইউরোপের প্রথম পাবলিক কোয়ান্টাম কোম্পানি হিসেবে আইকিউএম-এর এই পাবলিক অফারিং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ পথচলা এখনও বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বর্তমান কম্পিউটার বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং ওষুধের ফর্মুলা উদ্ভাবন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কিন্তু আইকিউএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রযুক্তিকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। বর্তমান অবকাঠামোতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় বাধা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আইকিউএম-এর ১.৯ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন এই খাতের অপার সম্ভাবনারই প্রতিফলন। তবে কোম্পানিটি নিজেই স্বীকার করেছে যে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপান্তর কবে নাগাদ ঘটবে তা নিশ্চিত নয়। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তারা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির পরিপক্কতা আসতে আরও সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার উন্নয়ন এবং কোয়ান্টাম এরর কারেকশন বা ত্রুটি সংশোধনের মতো জটিল বিষয়গুলোতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। গুগল, আইবিএম এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আইকিউএম-এর কৌশল হবে বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার সলিউশন প্রদান করা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের কথা শোনা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক এই প্রযুক্তির প্রসারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর। আইকিউএম-এর এই যাত্রা কেবল একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো কোয়ান্টাম শিল্পের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি যদি বাস্তবিক ক্ষেত্রে বড় কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারে, তবেই এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা: চূড়ান্ত রায় ৯ জুলাই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কোয়ান্টাম প্রযুক্তির অদূর ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত? ন্যাসডাকের তালিকায় আইকিউএম-এর অভিষেক

আপডেট : ০৩:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফিনল্যান্ডভিত্তিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএম’ (IQM) সম্প্রতি ন্যাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে কোম্পানিটির এই যাত্রা শুরু হলেও, প্রযুক্তি বিশ্বে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইউরোপের প্রথম পাবলিক কোয়ান্টাম কোম্পানি হিসেবে আইকিউএম-এর এই পাবলিক অফারিং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ পথচলা এখনও বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বর্তমান কম্পিউটার বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং ওষুধের ফর্মুলা উদ্ভাবন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কিন্তু আইকিউএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রযুক্তিকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। বর্তমান অবকাঠামোতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় বাধা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আইকিউএম-এর ১.৯ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন এই খাতের অপার সম্ভাবনারই প্রতিফলন। তবে কোম্পানিটি নিজেই স্বীকার করেছে যে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপান্তর কবে নাগাদ ঘটবে তা নিশ্চিত নয়। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তারা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির পরিপক্কতা আসতে আরও সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার উন্নয়ন এবং কোয়ান্টাম এরর কারেকশন বা ত্রুটি সংশোধনের মতো জটিল বিষয়গুলোতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। গুগল, আইবিএম এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আইকিউএম-এর কৌশল হবে বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার সলিউশন প্রদান করা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের কথা শোনা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক এই প্রযুক্তির প্রসারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর। আইকিউএম-এর এই যাত্রা কেবল একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো কোয়ান্টাম শিল্পের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি যদি বাস্তবিক ক্ষেত্রে বড় কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারে, তবেই এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।