বাংলাদেশের রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় এক অগ্রণী ও প্রতিবাদী নাম। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে যে গণঅভ্যুত্থান দানা বেঁধে উঠেছিল, তাতে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। যুগ যুগ ধরে ক্যাম্পাসে প্রচলিত ভয়ভীতি, দমনপীড়ন এবং সামাজিক নিবর্তনের সব দেয়াল ভেঙে সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিলেন তারা। তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ও কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের এই সরব উপস্থিতি কেবল আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিই বদলে দেয়নি, বরং বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নারী শক্তির এক নতুন ও অপ্রতিরোধ্য জাগরণের সূচনা করেছিল।
আন্দোলনের দিনগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের তালা ভেঙে এবং প্রশাসনের নানা বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে শত শত ছাত্রী মিছিলে যোগ দেন। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হামলা উপেক্ষা করে তারা সাহসিকতার সাথে রাজপথের অগ্রভাগে অবস্থান নেন। নারী শিক্ষার্থীদের এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অবস্থান দেখে একসময় ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। তাদের এই বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছিল যে, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে নারীরা কেবল দর্শক বা পেছনের সারির শক্তি নন, বরং সম্মুখসারির নেতৃত্ব দিতেও সমানভাবে সক্ষম।
পরবর্তীতে এই আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সামগ্রিক বৈষম্যবিরোধী ও সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে সমহিমায় অংশ নেন। আহত সহযোদ্ধাদের শুশ্রূষা করা, রাজপথে স্লোগান ধরে রাখা এবং আইনি বা নৈতিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে তারা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আন্দোলনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই উত্তাল দিনগুলোর দিকে তাকাই, তখন পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল ছিল না, এটি ছিল এ দেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি এবং নারী সমাজের দীর্ঘদিনের ভয়জয়ের এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান।
রিপোর্টার নাম: 






















