Hi

০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বরেকর্ড গড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উদয় বৈভব সূর্যবংশীর: ভাঙলেন শচিন-কুশল মাল্লার রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় এক নতুন বিস্ময়বালকের আবির্ভাব ঘটল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্যাট হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিলেন ভারতের উদীয়মান বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের প্রথম অর্ধশতক হাঁকানোর পথেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফিফটি করার বিশ্বরেকর্ডটি নিজের নামে করে নিয়েছেন। হারারের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন তিনি ব্যাটিং করতে নামেন, তখন হয়তো কারোরই ধারণা ছিল না যে ক্রিকেট ইতিহাস এমন এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। মাত্র ১৮ বলে ঝোড়ো গতিতে অর্ধশতক পূর্ণ করে বৈভব প্রমাণ করলেন কেন তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের অন্যতম নক্ষত্র বলা হচ্ছে।

বৈভবের এই অনন্য অর্জনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ ফিফটির রেকর্ডটি ছিল নেপালের ক্রিকেটার কুশল মাল্লার দখলে, যিনি ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে ম্লান হয়ে গেছে অতীতের সব পরিসংখ্যান। তার ১৮ বলের এই ইনিংসে ছিল চারবার বাউন্ডারি পার হওয়ার দৃশ্য এবং চারবার বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলার মতো পরাক্রমশালী সব শট। তার এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের জয়ের পথকে অনেক বেশি মসৃণ করে দিয়েছিল।

এই ইনিংসটি কেবল বৈভবের ক্যারিয়ারের সূচনাই নয়, বরং এটি ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্ধশতক করার রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফয়সালাবাদ টেস্টে ১৬ বছর ২১৩ দিন বয়সে অর্ধশতক করেছিলেন শচিন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর সেই রেকর্ডের আশেপাশে কেউ পৌঁছাতে পারেননি। শচিনের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে বৈভব সূর্যবংশী বুঝিয়ে দিলেন যে, আধুনিক ক্রিকেটে বয়সের চেয়ে প্রতিভার ধারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচটির প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হারারেতে টস জিতে ভারত প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৫ রান। ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বৈভব সূর্যবংশী যেভাবে ইনিংসটির সূচনা করেন, তা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তার প্রতিটি শটে ছিল সাহসিকতা ও দক্ষতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই জয় ভারতের জন্য যেমন আনন্দদায়ক, বৈভবের এই অনন্য রেকর্ড ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গৌরবের বিষয় হয়ে রইল। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৈভবের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তিনি ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

জনপ্রিয়

ইরানে টানা ১৩তম দিনের মার্কিন হামলা: উত্তেজনা চরমে, আহভাজে চারজনের মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিশ্বরেকর্ড গড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উদয় বৈভব সূর্যবংশীর: ভাঙলেন শচিন-কুশল মাল্লার রেকর্ড

আপডেট : ১০:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় এক নতুন বিস্ময়বালকের আবির্ভাব ঘটল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্যাট হাতে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিলেন ভারতের উদীয়মান বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের প্রথম অর্ধশতক হাঁকানোর পথেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফিফটি করার বিশ্বরেকর্ডটি নিজের নামে করে নিয়েছেন। হারারের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন তিনি ব্যাটিং করতে নামেন, তখন হয়তো কারোরই ধারণা ছিল না যে ক্রিকেট ইতিহাস এমন এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। মাত্র ১৮ বলে ঝোড়ো গতিতে অর্ধশতক পূর্ণ করে বৈভব প্রমাণ করলেন কেন তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের অন্যতম নক্ষত্র বলা হচ্ছে।

বৈভবের এই অনন্য অর্জনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ ফিফটির রেকর্ডটি ছিল নেপালের ক্রিকেটার কুশল মাল্লার দখলে, যিনি ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে ম্লান হয়ে গেছে অতীতের সব পরিসংখ্যান। তার ১৮ বলের এই ইনিংসে ছিল চারবার বাউন্ডারি পার হওয়ার দৃশ্য এবং চারবার বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলার মতো পরাক্রমশালী সব শট। তার এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের জয়ের পথকে অনেক বেশি মসৃণ করে দিয়েছিল।

এই ইনিংসটি কেবল বৈভবের ক্যারিয়ারের সূচনাই নয়, বরং এটি ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্ধশতক করার রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফয়সালাবাদ টেস্টে ১৬ বছর ২১৩ দিন বয়সে অর্ধশতক করেছিলেন শচিন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর সেই রেকর্ডের আশেপাশে কেউ পৌঁছাতে পারেননি। শচিনের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে বৈভব সূর্যবংশী বুঝিয়ে দিলেন যে, আধুনিক ক্রিকেটে বয়সের চেয়ে প্রতিভার ধারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচটির প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হারারেতে টস জিতে ভারত প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১২৫ রান। ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বৈভব সূর্যবংশী যেভাবে ইনিংসটির সূচনা করেন, তা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তার প্রতিটি শটে ছিল সাহসিকতা ও দক্ষতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই জয় ভারতের জন্য যেমন আনন্দদায়ক, বৈভবের এই অনন্য রেকর্ড ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গৌরবের বিষয় হয়ে রইল। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৈভবের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তিনি ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।