Hi

১২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্ত ডাইনোসরের সঠিক চেহারা কীভাবে উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা: জীবাশ্ম গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ডাইনোসরদের প্রকৃত চেহারা ঠিক কেমন ছিল, তা জানার আগ্রহ মানুষের বহু পুরোনো। আপাতদৃষ্টিতে কঙ্কালের কতিপয় হাড়গোড় দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর বাইরের শারীরিক গঠন বা অঙ্গসৌষ্ঠব ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব বলে মনে হলেও, আধুনিক প্রত্নজীববিজ্ঞান (প্যালিওন্টোলজি) ও উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে বিজ্ঞানীরা এখন ডাইনোসরের অবয়ব উন্মোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করছেন। সংগৃহীত কঙ্কালের সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রাণীদেহের শারীরিক গঠনের তুলনা এবং বায়োমেকানিক্স বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কেবল চেহারা নয়, বরং ডাইনোসরদের চলাফেরা ও শিকারের ধরন সম্পর্কেও নির্ভুল ধারণা দিতে সক্ষম হচ্ছেন।

২০১৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা রাজ্যে পাওয়া ৬৬ মিলিয়ন বছর পুরোনো একটি জীবাশ্ম বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘ডাকোটার‍্যাপটর’ নামের দুই পায়ে হাঁটা এই শিকারি প্রাণীর পুরো দেহ ছিল ঘন পালকে ঢাকা, চটপটে এবং প্রায় পাঁচ মিটার দীর্ঘ। এর পেছনের পায়ের দ্বিতীয় আঙুলে কাস্তের মতো ধারালো নখ এবং চোয়ালে তীক্ষ্ণ দাঁত বিদ্যমান ছিল। আপাতদৃষ্টিতে কেবল কঙ্কালের হাড় দেখে এমন বিস্তারিত শারীরিক বিবরণ ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব মনে হলেও, বিজ্ঞানীরা সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমেই তা সম্ভব করেছেন। ডাইনোসরের কঙ্কাল থেকে আসল চেহারার অনুমান কতটা কঠিন, তা একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করা যায়। আজকের দিনের কোনো জেব্রা বা জলহস্তীর কেবল কঙ্কাল দেখে তাদের গায়ের ডোরাকাটা দাগ কিংবা পুরু চর্বির স্তরের কথা অনুধাবন করা সাধারণ পর্যবেক্ষণে প্রায় অসম্ভব। ঠিক একইভাবে ডাইনোসরদের ক্ষেত্রেও কেবল হাড়ের ওপর ভিত্তি না করে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ মাটির নিচে ডাইনোসরের বিশাল আকারের কঙ্কাল খুঁজে পেয়ে নানা পৌরাণিক রূপকথার জন্ম দিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দে চীনে প্রচলিত ড্রাগনের রূপকথা কিংবা প্রাচীন গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীর ‘গ্রিফিন’ নামের গ্রীবা ও ডানাবিশিষ্ট কল্পিত প্রাণীর উৎপত্তি মূলত প্রোটোসেরাটপসের মতো ডাইনোসরের কঙ্কাল থেকেই হয়েছিল। ১৭৬৩ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক রিচার্ড ব্রুকস ডাইনোসরের একটি হাড়কে ধর্মীয় কাহিনীর দৈত্যের হাড় বলে ভুল মনে করেছিলেন, যা মূলত ছিল মেগালোসরাস ডাইনোসরের অংশ। পরবর্তীতে ১৮২৪ সালে বিজ্ঞানী উইলিয়াম বাকল্যান্ড এটিকে একটি বিলুপ্ত সরীসৃপ প্রাণী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেন এবং ১৮৪২ সালে ‘ডাইনোসর’ নামটির উৎপত্তি ঘটে।

পূর্বে ডাইনোসরদের ধীরগতির এবং শীতল রক্তের টিকটিকি বা কুমিরের মতো সরীসৃপ মনে করা হলেও ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানী জন অস্ট্রম নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ডাইনোসররা ছিল পাখিদের মতো অত্যন্ত চটপটে ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালে চীনে সংরক্ষিত পালকযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার পর এই মতবাদ বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়। বর্তমানের বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের কঙ্কাল পেলে তা প্রথমে পাখি, কুমির এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর কঙ্কালের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বিন্যাসে মিলিয়ে নেন। কোনো হাড় নিখোঁজ থাকলে সমগোত্রীয় প্রজাতির গঠন পর্যবেক্ষণ করে থ্রিডি মডেলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা হয়।

ডাইনোসরের কেবল হাড় জোড়া দিলেই গবেষণা শেষ হয় না; এর মাংসপেশি, চামড়া এবং অঙ্গসংস্থানের সঠিক হিসাব মেলাতে হয়। কঙ্কালের গায়ে পেশি আটকে থাকার বিশেষ ধরনের দাগ বা ‘মাসল স্কার’ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন ওই প্রাণীর মাংসপেশি কতটা শক্তিশালী ছিল। যেমন, দীর্ঘদেহী ডিপ্লোডোকাসের বিশাল শরীরের ভার সামলানোর জন্য তাদের মেরুদণ্ডের পেশি কীভাবে কাজ করত, তা ডিজিটাল সিমুলেশনের মাধ্যমে উদঘাটিত হয়েছে। একই সঙ্গে এডমন্টোসরাস ডাইনোসরের জীবাশ্মে পাওয়া আঁশযুক্ত চামড়ার ছাপ এবং অ্যাঙ্কাইলোসরের গায়ে থাকা হাড়ের তৈরি বর্ম ও কাঁটার চিহ্ন বিশ্লেষণ করে শরীরের বাইরের আবরণ নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে মাংসাশী ডাইনোসরদের শরীরে পালক থাকার স্পষ্ট প্রমাণ ভেলোসিরাপটর ও ডাকোটার‍্যাপটরের জীবাশ্মে পাওয়া ডানার ছাঁচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আধুনিক গবেষণায় এখন কেবল অনুমানের ওপর নির্ভর না করে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে জীবাশ্মে টিকে থাকা কালার পিগমেন্ট বা ‘মেলানোসোম’ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর ফলে শতকোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের গায়ের আসল রং ও প্যাটার্নও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, বিজ্ঞানী এবং প্রত্নশিল্পীদের (প্যালিও-আর্টিস্ট) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডাইনোসরদের যে বৈজ্ঞানিক ছবি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তা অতীত পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জনপ্রিয়

ঢাকার কম্পিউটার বাজারে বহনযোগ্য হার্ডডিস্কের দাম বৃদ্ধি, স্থিতিশীল অন্যান্য যন্ত্রাংশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিলুপ্ত ডাইনোসরের সঠিক চেহারা কীভাবে উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা: জীবাশ্ম গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

আপডেট : ১০:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ডাইনোসরদের প্রকৃত চেহারা ঠিক কেমন ছিল, তা জানার আগ্রহ মানুষের বহু পুরোনো। আপাতদৃষ্টিতে কঙ্কালের কতিপয় হাড়গোড় দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর বাইরের শারীরিক গঠন বা অঙ্গসৌষ্ঠব ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব বলে মনে হলেও, আধুনিক প্রত্নজীববিজ্ঞান (প্যালিওন্টোলজি) ও উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে বিজ্ঞানীরা এখন ডাইনোসরের অবয়ব উন্মোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করছেন। সংগৃহীত কঙ্কালের সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রাণীদেহের শারীরিক গঠনের তুলনা এবং বায়োমেকানিক্স বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কেবল চেহারা নয়, বরং ডাইনোসরদের চলাফেরা ও শিকারের ধরন সম্পর্কেও নির্ভুল ধারণা দিতে সক্ষম হচ্ছেন।

২০১৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা রাজ্যে পাওয়া ৬৬ মিলিয়ন বছর পুরোনো একটি জীবাশ্ম বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘ডাকোটার‍্যাপটর’ নামের দুই পায়ে হাঁটা এই শিকারি প্রাণীর পুরো দেহ ছিল ঘন পালকে ঢাকা, চটপটে এবং প্রায় পাঁচ মিটার দীর্ঘ। এর পেছনের পায়ের দ্বিতীয় আঙুলে কাস্তের মতো ধারালো নখ এবং চোয়ালে তীক্ষ্ণ দাঁত বিদ্যমান ছিল। আপাতদৃষ্টিতে কেবল কঙ্কালের হাড় দেখে এমন বিস্তারিত শারীরিক বিবরণ ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব মনে হলেও, বিজ্ঞানীরা সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমেই তা সম্ভব করেছেন। ডাইনোসরের কঙ্কাল থেকে আসল চেহারার অনুমান কতটা কঠিন, তা একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করা যায়। আজকের দিনের কোনো জেব্রা বা জলহস্তীর কেবল কঙ্কাল দেখে তাদের গায়ের ডোরাকাটা দাগ কিংবা পুরু চর্বির স্তরের কথা অনুধাবন করা সাধারণ পর্যবেক্ষণে প্রায় অসম্ভব। ঠিক একইভাবে ডাইনোসরদের ক্ষেত্রেও কেবল হাড়ের ওপর ভিত্তি না করে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ মাটির নিচে ডাইনোসরের বিশাল আকারের কঙ্কাল খুঁজে পেয়ে নানা পৌরাণিক রূপকথার জন্ম দিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দে চীনে প্রচলিত ড্রাগনের রূপকথা কিংবা প্রাচীন গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীর ‘গ্রিফিন’ নামের গ্রীবা ও ডানাবিশিষ্ট কল্পিত প্রাণীর উৎপত্তি মূলত প্রোটোসেরাটপসের মতো ডাইনোসরের কঙ্কাল থেকেই হয়েছিল। ১৭৬৩ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক রিচার্ড ব্রুকস ডাইনোসরের একটি হাড়কে ধর্মীয় কাহিনীর দৈত্যের হাড় বলে ভুল মনে করেছিলেন, যা মূলত ছিল মেগালোসরাস ডাইনোসরের অংশ। পরবর্তীতে ১৮২৪ সালে বিজ্ঞানী উইলিয়াম বাকল্যান্ড এটিকে একটি বিলুপ্ত সরীসৃপ প্রাণী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেন এবং ১৮৪২ সালে ‘ডাইনোসর’ নামটির উৎপত্তি ঘটে।

পূর্বে ডাইনোসরদের ধীরগতির এবং শীতল রক্তের টিকটিকি বা কুমিরের মতো সরীসৃপ মনে করা হলেও ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানী জন অস্ট্রম নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ডাইনোসররা ছিল পাখিদের মতো অত্যন্ত চটপটে ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালে চীনে সংরক্ষিত পালকযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার পর এই মতবাদ বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়। বর্তমানের বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের কঙ্কাল পেলে তা প্রথমে পাখি, কুমির এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর কঙ্কালের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বিন্যাসে মিলিয়ে নেন। কোনো হাড় নিখোঁজ থাকলে সমগোত্রীয় প্রজাতির গঠন পর্যবেক্ষণ করে থ্রিডি মডেলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা হয়।

ডাইনোসরের কেবল হাড় জোড়া দিলেই গবেষণা শেষ হয় না; এর মাংসপেশি, চামড়া এবং অঙ্গসংস্থানের সঠিক হিসাব মেলাতে হয়। কঙ্কালের গায়ে পেশি আটকে থাকার বিশেষ ধরনের দাগ বা ‘মাসল স্কার’ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন ওই প্রাণীর মাংসপেশি কতটা শক্তিশালী ছিল। যেমন, দীর্ঘদেহী ডিপ্লোডোকাসের বিশাল শরীরের ভার সামলানোর জন্য তাদের মেরুদণ্ডের পেশি কীভাবে কাজ করত, তা ডিজিটাল সিমুলেশনের মাধ্যমে উদঘাটিত হয়েছে। একই সঙ্গে এডমন্টোসরাস ডাইনোসরের জীবাশ্মে পাওয়া আঁশযুক্ত চামড়ার ছাপ এবং অ্যাঙ্কাইলোসরের গায়ে থাকা হাড়ের তৈরি বর্ম ও কাঁটার চিহ্ন বিশ্লেষণ করে শরীরের বাইরের আবরণ নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে মাংসাশী ডাইনোসরদের শরীরে পালক থাকার স্পষ্ট প্রমাণ ভেলোসিরাপটর ও ডাকোটার‍্যাপটরের জীবাশ্মে পাওয়া ডানার ছাঁচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আধুনিক গবেষণায় এখন কেবল অনুমানের ওপর নির্ভর না করে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে জীবাশ্মে টিকে থাকা কালার পিগমেন্ট বা ‘মেলানোসোম’ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর ফলে শতকোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের গায়ের আসল রং ও প্যাটার্নও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, বিজ্ঞানী এবং প্রত্নশিল্পীদের (প্যালিও-আর্টিস্ট) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডাইনোসরদের যে বৈজ্ঞানিক ছবি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তা অতীত পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।