Hi

০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্বাচলে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: আধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে সাজছে নতুন শহর

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বৃহৎ প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির তার বক্তব্যে বলেন, পূর্বাচলকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ এবং আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের এই উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রেক্ষিতে রাজউক ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি জমি হস্তান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।

পূর্বাচলকে ডিএমপির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আইজিপি জানান, এখানে চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া প্রতিটি সেক্টরে নিরাপত্তার স্বার্থে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এই এলাকাকে ডিএমপির অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জনবল নিয়োগের একটি প্রস্তাবও বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যার প্রথমটি আজ উদ্বোধন করা হলো এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় ক্যাম্পটির কার্যক্রমও শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় পূর্বাচলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত এই নগরীতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয়

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান: বিপুল গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পূর্বাচলে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: আধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে সাজছে নতুন শহর

আপডেট : ১২:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বৃহৎ প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির তার বক্তব্যে বলেন, পূর্বাচলকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ এবং আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের এই উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রেক্ষিতে রাজউক ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি জমি হস্তান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।

পূর্বাচলকে ডিএমপির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আইজিপি জানান, এখানে চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া প্রতিটি সেক্টরে নিরাপত্তার স্বার্থে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এই এলাকাকে ডিএমপির অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জনবল নিয়োগের একটি প্রস্তাবও বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যার প্রথমটি আজ উদ্বোধন করা হলো এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় ক্যাম্পটির কার্যক্রমও শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় পূর্বাচলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত এই নগরীতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।