Hi

০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাকফুলের ঐতিহ্য ছাপিয়ে আধুনিক ফ্যাশনে নতুন ট্রেন্ড ‘সেপ্টাম রিং’

ফ্যাশনের বিবর্তনশীল জগতে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন সব মাত্রা। এক সময় নাকে গয়না বলতে কেবল নাকফুল বা নথের ব্যবহারই ছিল প্রচলিত, যা মূলত ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেই বিবেচিত হতো। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেই সংজ্ঞায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনে নতুন এবং সাহসী অনুষঙ্গ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘সেপ্টাম রিং’। নাকের দুই ছিদ্রের মাঝখানের অংশে পরা এই ছোট রিংটি এখন বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন সচেতন মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। মিনিমালিস্ট বা সহজ-সরল ফ্যাশনের এই যুগে অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ গয়নার চেয়ে ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে এমন সূক্ষ্ম অলংকারের চাহিদা বেড়েছে। সেপ্টাম রিং ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় নাকফুল বা নথ দীর্ঘকাল ধরে বিবাহিত নারীর চিরাচরিত পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। একইসঙ্গে কিছু আদিবাসী ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই সেপ্টাম রিং ব্যবহার করে আসছেন। তবে বর্তমান সময়ে শহরের আধুনিক তরুণীরা একে কোনো সামাজিক বা বৈবাহিক প্রতীক হিসেবে নয়, বরং একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করছেন। শাড়ি, কুর্তি থেকে শুরু করে আধুনিক ওয়েস্টার্ন আউটফিট—সব ধরনের পোশাকের সাথেই এটি অনায়াসে মানিয়ে যায়। বিশ্বখ্যাত সেলিব্রিটি, সংগীতশিল্পী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবে এই ট্রেন্ড এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টাম রিংয়ের জনপ্রিয়তা কেবল সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি অনেকের কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে পছন্দ করেন। এক সময় এই অলংকারকে ঘিরে নানা ধরনের ভুল ধারণা বা একে বিদ্রোহী স্টাইল হিসেবে দেখার প্রবণতা থাকলেও, বর্তমানে সেই মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ট্যাটু বা কানের একাধিক ছিদ্রের মতো সেপ্টাম রিংও এখন মূলধারার ফ্যাশনের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও সেপ্টাম রিং এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। আগে এটি মূলত নারীদের গয়না হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরুষরাও আত্মবিশ্বাসের সাথে এটি পরছেন। বিশেষ করে সৃজনশীল পেশার মানুষ এবং আধুনিক সংগীতশিল্পীদের মধ্যে এর ব্যবহার লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে, সেপ্টাম রিং আজ কেবল একটি ধাতব অলংকার নয়, বরং এটি আত্মপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য এবং রুচি বজায় রেখে নতুনকে গ্রহণ করার এই প্রবণতাই আধুনিক ফ্যাশনকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

জনপ্রিয়

পর্তুগালের আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: সম্পদ নাকি সময়ের প্রয়োজনে বোঝা?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নাকফুলের ঐতিহ্য ছাপিয়ে আধুনিক ফ্যাশনে নতুন ট্রেন্ড ‘সেপ্টাম রিং’

আপডেট : ০৪:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফ্যাশনের বিবর্তনশীল জগতে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন সব মাত্রা। এক সময় নাকে গয়না বলতে কেবল নাকফুল বা নথের ব্যবহারই ছিল প্রচলিত, যা মূলত ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেই বিবেচিত হতো। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেই সংজ্ঞায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনে নতুন এবং সাহসী অনুষঙ্গ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘সেপ্টাম রিং’। নাকের দুই ছিদ্রের মাঝখানের অংশে পরা এই ছোট রিংটি এখন বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন সচেতন মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। মিনিমালিস্ট বা সহজ-সরল ফ্যাশনের এই যুগে অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ গয়নার চেয়ে ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে এমন সূক্ষ্ম অলংকারের চাহিদা বেড়েছে। সেপ্টাম রিং ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় নাকফুল বা নথ দীর্ঘকাল ধরে বিবাহিত নারীর চিরাচরিত পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। একইসঙ্গে কিছু আদিবাসী ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই সেপ্টাম রিং ব্যবহার করে আসছেন। তবে বর্তমান সময়ে শহরের আধুনিক তরুণীরা একে কোনো সামাজিক বা বৈবাহিক প্রতীক হিসেবে নয়, বরং একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করছেন। শাড়ি, কুর্তি থেকে শুরু করে আধুনিক ওয়েস্টার্ন আউটফিট—সব ধরনের পোশাকের সাথেই এটি অনায়াসে মানিয়ে যায়। বিশ্বখ্যাত সেলিব্রিটি, সংগীতশিল্পী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবে এই ট্রেন্ড এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টাম রিংয়ের জনপ্রিয়তা কেবল সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি অনেকের কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে পছন্দ করেন। এক সময় এই অলংকারকে ঘিরে নানা ধরনের ভুল ধারণা বা একে বিদ্রোহী স্টাইল হিসেবে দেখার প্রবণতা থাকলেও, বর্তমানে সেই মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ট্যাটু বা কানের একাধিক ছিদ্রের মতো সেপ্টাম রিংও এখন মূলধারার ফ্যাশনের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও সেপ্টাম রিং এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। আগে এটি মূলত নারীদের গয়না হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরুষরাও আত্মবিশ্বাসের সাথে এটি পরছেন। বিশেষ করে সৃজনশীল পেশার মানুষ এবং আধুনিক সংগীতশিল্পীদের মধ্যে এর ব্যবহার লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে, সেপ্টাম রিং আজ কেবল একটি ধাতব অলংকার নয়, বরং এটি আত্মপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য এবং রুচি বজায় রেখে নতুনকে গ্রহণ করার এই প্রবণতাই আধুনিক ফ্যাশনকে আরও সমৃদ্ধ করছে।