Hi

১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের  বললেন, “আগামী দিনে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। পাশাপাশি আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। এসময় শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণেরও ঘোষণা দিয়েছেন এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। আগামী দিনে মাদ্রাসার এবং সাধারণ শিক্ষার যেসব বিষয় কমন (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি)-সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ ছাড়া, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থমকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এটি হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।’

শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় ঠেকলেও তা শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকায় বেতনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। বর্তমান সরকার এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কাজ করছে।

জনপ্রিয়

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট : ১২:০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের  বললেন, “আগামী দিনে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। পাশাপাশি আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। এসময় শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণেরও ঘোষণা দিয়েছেন এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। আগামী দিনে মাদ্রাসার এবং সাধারণ শিক্ষার যেসব বিষয় কমন (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি)-সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ ছাড়া, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থমকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এটি হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।’

শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় ঠেকলেও তা শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকায় বেতনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। বর্তমান সরকার এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কাজ করছে।