ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক দশকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান এই রপ্তানি খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে ইউরোপীয় ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পোশাকের চাহিদার ওপর। সেই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম এবং তুরস্কের মতো প্রতিযোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পমালিকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই রপ্তানি হ্রাস কেবল শিল্পমালিকদের জন্যই নয়, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জোগান দেয়, তাই এই খাতে ধস নামলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোক্তারা এখন নতুন বাজারের সন্ধানে জোর দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের গুণমান ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এবং ইউরোপের বাজারে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সরকার এবং বিজিএমইএ যৌথভাবে বাজার সম্প্রসারণের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 




















