Hi

১০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ (CMEC)-এর সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের একটি নতুন সংযোগ স্থাপিত হবে, যা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর আওতায় আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে আসছে। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হলো চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর। এখন এর সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার অর্থ হলো, চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর ফলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সাথে চীনের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পায়নের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে এই প্রস্তাবটি শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলে আসছে। ফলে এই করিডোরে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি এই করিডোরে যুক্ত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

পরিশেষে, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঋণের বোঝা এবং পরিবেশগত প্রভাব। এছাড়া, ভারত ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখন দেখার বিষয়। সরকার বর্তমানে এই প্রস্তাবটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকলেও, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ই জিন ক্যারল মামলা: ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

আপডেট : ০১:২৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ (CMEC)-এর সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের একটি নতুন সংযোগ স্থাপিত হবে, যা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর আওতায় আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে আসছে। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হলো চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর। এখন এর সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার অর্থ হলো, চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর ফলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সাথে চীনের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পায়নের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে এই প্রস্তাবটি শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলে আসছে। ফলে এই করিডোরে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি এই করিডোরে যুক্ত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

পরিশেষে, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঋণের বোঝা এবং পরিবেশগত প্রভাব। এছাড়া, ভারত ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখন দেখার বিষয়। সরকার বর্তমানে এই প্রস্তাবটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকলেও, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।