মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে কোনোভাবেই বরখাস্ত করতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট। এই রায় ফেডারেল রিজার্ভের মতো স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আদালত ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) কমিশনার রেবেকা স্লাটারকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছে, যা মার্কিন প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় মার্কিন শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্যের এক নতুন বিন্যাস তৈরি করেছে। একদিকে ফেডারেল রিজার্ভের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, অন্যদিকে অন্যান্য স্বাধীন সংস্থার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বরখাস্ত করার ক্ষমতাকে প্রশস্ত করা হয়েছে। এই বিভাজনটি মূলত বিভিন্ন সংস্থার আইনি কাঠামোর পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটি কয়েক দশকের পুরোনো আইনি নজির ভেঙেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল, এই রায়ের মাধ্যমে তার একটি মিশ্র ফলাফল দেখা গেল। যদিও লিসা কুকের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাত বাধা, কিন্তু অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এই রায় মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ এবং স্বাধীন সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের সীমানা নির্ধারণে একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায়কে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যা আগামী দিনে সরকারি নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 















