Hi

০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে এল ৫৪০ টন মিথানল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ জন দেখেছে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌপথটি পুনরায় সচল হয়েছে। সোমবার ভারতের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। ব্রিটিশ আমলে এই নদীপথটি মূলত কলকাতা পর্যন্ত চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এই রুটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র নদীবন্দরটি ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

সোমবার বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামক মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। ডিব্রুগড়ের স্থানীয় বাসিন্দা সনোয়াল স্মৃতিচারণ করে বলেন, দীর্ঘ ৭০ বছর এই ঘাট ও নৌপথ স্থবির ছিল, যা এখন আবার বিশ্ববাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডর হিসেবে ব্যবহারের এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কয়েক দশক ধরে যা ছিল না, তা হলো এটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা। সনোয়াল বলেন, ভারতের চা রাজধানী হিসেবে পরিচিত ডিব্রুগড় একসময় যে মহান নদীবন্দর হিসেবে গৌরব অর্জন করেছিল, তা আবার ফিরে পাচ্ছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এই রুটে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে নতুন পরিচিতি পাচ্ছে। কাস্টমস ও অভিবাসন সুবিধা চালুর ফলে বগীবিল ও ধুবড়ি বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন এখন সহজতর হয়েছে। একসময় ১৮৫৬ সালে কলকাতা থেকে স্টিমার সেবা চালু হয়েছিল এবং ১৯১৩ সাল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র দিয়ে নিয়মিত পণ্য ও যাত্রী চলাচল করত। ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নদীর তলদেশের পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর আন্তঃসীমান্ত নৌবাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এই শহরে আসত।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নৌ-বাণিজ্য প্রটোকল স্বাক্ষর করে এবং ১৯৮৮ সালে ব্রহ্মপুত্রের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সিমেন্ট পরিবহনের মধ্য দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে টাটা স্টিলের বার্জ এবং ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ জাহাজ এই রুট দিয়ে চলাচল করে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বগীবিল টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা চালু হয়।

সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এই অঞ্চলের জলপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে ভারত। এছাড়া পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা এবং শেষ মাইলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। মন্ত্রী সনোয়াল আরও জানান, জলপথ ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাকের চাপও কমে আসছে। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সাথে আঞ্চলিক জলপথ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে। ডিব্রুগড়ে বেড়ে ওঠা সনোয়াল বলেন, আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের বাঁশির শব্দ শুনে বড় হয়েছেন। আমরা বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তুলছি এবং একই সঙ্গে এর ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছি।

জনপ্রিয়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, ঝিনাইদহে তীব্র নিন্দা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে এল ৫৪০ টন মিথানল

আপডেট : ১১:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌপথটি পুনরায় সচল হয়েছে। সোমবার ভারতের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। ব্রিটিশ আমলে এই নদীপথটি মূলত কলকাতা পর্যন্ত চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এই রুটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র নদীবন্দরটি ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

সোমবার বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামক মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। ডিব্রুগড়ের স্থানীয় বাসিন্দা সনোয়াল স্মৃতিচারণ করে বলেন, দীর্ঘ ৭০ বছর এই ঘাট ও নৌপথ স্থবির ছিল, যা এখন আবার বিশ্ববাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডর হিসেবে ব্যবহারের এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কয়েক দশক ধরে যা ছিল না, তা হলো এটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা। সনোয়াল বলেন, ভারতের চা রাজধানী হিসেবে পরিচিত ডিব্রুগড় একসময় যে মহান নদীবন্দর হিসেবে গৌরব অর্জন করেছিল, তা আবার ফিরে পাচ্ছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এই রুটে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে নতুন পরিচিতি পাচ্ছে। কাস্টমস ও অভিবাসন সুবিধা চালুর ফলে বগীবিল ও ধুবড়ি বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন এখন সহজতর হয়েছে। একসময় ১৮৫৬ সালে কলকাতা থেকে স্টিমার সেবা চালু হয়েছিল এবং ১৯১৩ সাল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র দিয়ে নিয়মিত পণ্য ও যাত্রী চলাচল করত। ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নদীর তলদেশের পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর আন্তঃসীমান্ত নৌবাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এই শহরে আসত।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ নৌ-বাণিজ্য প্রটোকল স্বাক্ষর করে এবং ১৯৮৮ সালে ব্রহ্মপুত্রের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সিমেন্ট পরিবহনের মধ্য দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে টাটা স্টিলের বার্জ এবং ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ জাহাজ এই রুট দিয়ে চলাচল করে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বগীবিল টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা চালু হয়।

সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এই অঞ্চলের জলপথ উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে ভারত। এছাড়া পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা এবং শেষ মাইলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। মন্ত্রী সনোয়াল আরও জানান, জলপথ ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাকের চাপও কমে আসছে। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সাথে আঞ্চলিক জলপথ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে। ডিব্রুগড়ে বেড়ে ওঠা সনোয়াল বলেন, আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের বাঁশির শব্দ শুনে বড় হয়েছেন। আমরা বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তুলছি এবং একই সঙ্গে এর ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছি।