Hi

০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয়

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:২৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

ইসলামে ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। একজন মুমিনের প্রতিটি নেক আমলের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করা। যদি কোনো ইবাদতের পেছনে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা লোক দেখানোর মানসিকতা কাজ করে, তবে ইসলামের পরিভাষায় তাকে ‘রিয়া’ বলা হয়। রিয়া আমলের নূর নষ্ট করে দেয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র কোরআনে লোক দেখানো ইবাদত সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তারা অলসভাবে নামাজে দাঁড়ায় এবং মানুষকে দেখানোর চেষ্টা করে। এছাড়া সুরা আল-মাউনের ৪ থেকে ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এমন নামাজিদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন এবং কেবল লোক দেখানোর জন্য তা পালন করে। এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শুধু আমল করলেই যথেষ্ট নয়, তার উদ্দেশ্যও হতে হবে সুষ্পষ্ট ও একনিষ্ঠ।

রিয়া কেবল নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এমনকি মানুষের সেবামূলক কাজের মধ্যেও লোক দেখানোর প্রবণতা ঢুকে পড়তে পারে। আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াতে মুমিনদের দান করে খোঁটা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে রিয়াকে একটি মসৃণ পাথরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার ওপর সামান্য মাটি থাকে; প্রবল বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে পাথরটি যেমন পরিষ্কার হয়ে যায়, তেমনি লোক দেখানো আমলের প্রতিদানও নষ্ট হয়ে যায়।

সহিহ মুসলিমের ১৯০৫ নম্বর হাদিসে রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে—একজন যুদ্ধে নিহত, একজন কোরআন শিক্ষায় পারদর্শী এবং একজন সম্পদশালী দানবীর ছিলেন। বাহ্যিকভাবে তাদের আমল বিশাল মনে হলেও, তাদের প্রত্যেকের অন্তরে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার বাসনা ছিল। ফলে তাদের সেই আমল পরকালে কোনো কাজে আসেনি, বরং তাদের কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

আমাদের নিয়মিত নিজের নিয়ত পর্যালোচনা করা জরুরি। লোক দেখানো আমল থেকে বাঁচতে নিজেকে প্রশ্ন করুন—‘মানুষ না জানলেও কি আমি এই ইবাদতটি করতাম?’ এটিই নিয়ত যাচাইয়ের সহজ উপায়। এছাড়া কিছু নেক আমল গোপনে করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যেমন—একান্তে তাহাজ্জুদ আদায়, গোপনে সদকা করা কিংবা কাউকে না জানিয়ে অন্যের উপকার করা। এই ধরনের গোপন ইবাদত আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে।

পবিত্র কোরআনে সুরা আল-বাইয়্যিনার ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে। তাই প্রতিটি ইবাদতের আগে ও পরে নিজের মনকে প্রশ্ন করে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই একজন মুমিনের কাজ। রিয়া থেকে বাঁচতে ও সব আমল কবুল করাতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করাই হলো শ্রেষ্ঠ পথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মানুষের মন নানা ধরনের প্রবণতায় প্রভাবিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসলামে আমলের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই আয়াতে লোক দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয়কারীর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমজন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে সাহসী বলুক, দ্বিতীয়জন চেয়েছিলেন তাকে আলেম ও কোরআন পাঠকারী হিসেবে পরিচিত করা হোক এবং তৃতীয়জন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে দানশীল বলুক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ থেকে বোঝা যায়, আমলের পরিমাণ যত বেশি হোক, নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে তা মানুষের আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

জনপ্রিয়

নতুন তথ্য: আজ রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয়

আপডেট : ১২:২৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামে ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। একজন মুমিনের প্রতিটি নেক আমলের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করা। যদি কোনো ইবাদতের পেছনে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা লোক দেখানোর মানসিকতা কাজ করে, তবে ইসলামের পরিভাষায় তাকে ‘রিয়া’ বলা হয়। রিয়া আমলের নূর নষ্ট করে দেয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র কোরআনে লোক দেখানো ইবাদত সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তারা অলসভাবে নামাজে দাঁড়ায় এবং মানুষকে দেখানোর চেষ্টা করে। এছাড়া সুরা আল-মাউনের ৪ থেকে ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এমন নামাজিদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন এবং কেবল লোক দেখানোর জন্য তা পালন করে। এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শুধু আমল করলেই যথেষ্ট নয়, তার উদ্দেশ্যও হতে হবে সুষ্পষ্ট ও একনিষ্ঠ।

রিয়া কেবল নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এমনকি মানুষের সেবামূলক কাজের মধ্যেও লোক দেখানোর প্রবণতা ঢুকে পড়তে পারে। আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াতে মুমিনদের দান করে খোঁটা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে রিয়াকে একটি মসৃণ পাথরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার ওপর সামান্য মাটি থাকে; প্রবল বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে পাথরটি যেমন পরিষ্কার হয়ে যায়, তেমনি লোক দেখানো আমলের প্রতিদানও নষ্ট হয়ে যায়।

সহিহ মুসলিমের ১৯০৫ নম্বর হাদিসে রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে—একজন যুদ্ধে নিহত, একজন কোরআন শিক্ষায় পারদর্শী এবং একজন সম্পদশালী দানবীর ছিলেন। বাহ্যিকভাবে তাদের আমল বিশাল মনে হলেও, তাদের প্রত্যেকের অন্তরে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার বাসনা ছিল। ফলে তাদের সেই আমল পরকালে কোনো কাজে আসেনি, বরং তাদের কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

আমাদের নিয়মিত নিজের নিয়ত পর্যালোচনা করা জরুরি। লোক দেখানো আমল থেকে বাঁচতে নিজেকে প্রশ্ন করুন—‘মানুষ না জানলেও কি আমি এই ইবাদতটি করতাম?’ এটিই নিয়ত যাচাইয়ের সহজ উপায়। এছাড়া কিছু নেক আমল গোপনে করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যেমন—একান্তে তাহাজ্জুদ আদায়, গোপনে সদকা করা কিংবা কাউকে না জানিয়ে অন্যের উপকার করা। এই ধরনের গোপন ইবাদত আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে।

পবিত্র কোরআনে সুরা আল-বাইয়্যিনার ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে। তাই প্রতিটি ইবাদতের আগে ও পরে নিজের মনকে প্রশ্ন করে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই একজন মুমিনের কাজ। রিয়া থেকে বাঁচতে ও সব আমল কবুল করাতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করাই হলো শ্রেষ্ঠ পথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মানুষের মন নানা ধরনের প্রবণতায় প্রভাবিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসলামে আমলের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই আয়াতে লোক দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয়কারীর উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমজন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে সাহসী বলুক, দ্বিতীয়জন চেয়েছিলেন তাকে আলেম ও কোরআন পাঠকারী হিসেবে পরিচিত করা হোক এবং তৃতীয়জন চেয়েছিলেন মানুষ তাকে দানশীল বলুক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ থেকে বোঝা যায়, আমলের পরিমাণ যত বেশি হোক, নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে তা মানুষের আখিরাতের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।