Hi

০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লঞ্চের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা’। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর। চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ডিজেল ও মবিলনির্ভর নৌযানগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৯৫ পয়সা ভাড়া রয়েছে, যা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি এই ভাড়া কার্যকর করা না হয়, তবে সরকার যেন জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম বাতিল করে দেয়।

লঞ্চ পরিচালনার খরচ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বিভিন্ন ফি ও চার্জ বাড়ানোকে দায়ী করেছেন মালিকরা। বর্তমানে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অনুমতি ফি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল চার্জ এবং মালিকানা বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে বর্ধিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিচালন ব্যয় বাড়ার পেছনে যন্ত্রাংশের আকাশছোঁয়া দামকেও দায়ী করেছেন তারা। লঞ্চ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস ও রঙের দাম গত কিছুদিনে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডকিংসহ নিয়মিত বিভিন্ন খাতের খরচও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছে যাপ সংস্থা। এসব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়িক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভাড়ার হার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে সম্মিলিত নিরাপত্তার ডাক দিলেন কাতারের আমির

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লঞ্চের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

আপডেট : ১২:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা’। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর। চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ডিজেল ও মবিলনির্ভর নৌযানগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৯৫ পয়সা ভাড়া রয়েছে, যা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি এই ভাড়া কার্যকর করা না হয়, তবে সরকার যেন জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম বাতিল করে দেয়।

লঞ্চ পরিচালনার খরচ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বিভিন্ন ফি ও চার্জ বাড়ানোকে দায়ী করেছেন মালিকরা। বর্তমানে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অনুমতি ফি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল চার্জ এবং মালিকানা বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে বর্ধিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিচালন ব্যয় বাড়ার পেছনে যন্ত্রাংশের আকাশছোঁয়া দামকেও দায়ী করেছেন তারা। লঞ্চ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস ও রঙের দাম গত কিছুদিনে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডকিংসহ নিয়মিত বিভিন্ন খাতের খরচও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছে যাপ সংস্থা। এসব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়িক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভাড়ার হার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।