Hi

১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক স্ত্রীকে প্রাণনাশের ঘটনায় নাটোরে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নাটোর সদর উপজেলার বাগরোমে সাবেক স্ত্রী মীম আক্তারকে (২১) ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে প্রাণনাশের দায়ে মো. রাজু প্রং (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) নাটোরের ৪র্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু প্রং নাটোর সদর থানার দক্ষিণ বড়গাছা এলাকার বাসিন্দা মো. সুজন প্রং ও মোছা. ফাতেমা বেগমের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজু ও মীমের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনার চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মীমের পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে রাজু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মোবাইল ফোনে মীমকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রাজু ও তার এক সহযোগী কৌশলে মীমদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে রাজু ধারালো চাকু দিয়ে মীমের বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এরপর তিনি তার সহযোগীকে নিয়ে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আদালতের রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রাজু প্রংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অনধিকার গৃহপ্রবেশের অপরাধে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত জানিয়েছেন, উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ লাখ টাকা জরিমানার মধ্যে এক লাখ টাকা মামলা পরিচালনাবাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং বাকি চার লাখ টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ(১) ধারা অনুযায়ী, আসামি ইতোমধ্যে যে সময় হাজতবাস করেছেন, তা মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাবেক স্ত্রীকে প্রাণনাশের ঘটনায় নাটোরে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ০৭:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নাটোর সদর উপজেলার বাগরোমে সাবেক স্ত্রী মীম আক্তারকে (২১) ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে প্রাণনাশের দায়ে মো. রাজু প্রং (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) নাটোরের ৪র্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু প্রং নাটোর সদর থানার দক্ষিণ বড়গাছা এলাকার বাসিন্দা মো. সুজন প্রং ও মোছা. ফাতেমা বেগমের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজু ও মীমের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনার চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মীমের পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে রাজু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মোবাইল ফোনে মীমকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রাজু ও তার এক সহযোগী কৌশলে মীমদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে রাজু ধারালো চাকু দিয়ে মীমের বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এরপর তিনি তার সহযোগীকে নিয়ে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আদালতের রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রাজু প্রংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অনধিকার গৃহপ্রবেশের অপরাধে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত জানিয়েছেন, উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ লাখ টাকা জরিমানার মধ্যে এক লাখ টাকা মামলা পরিচালনাবাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং বাকি চার লাখ টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ(১) ধারা অনুযায়ী, আসামি ইতোমধ্যে যে সময় হাজতবাস করেছেন, তা মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে।