মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক গোপন সফরে ইসরাইলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য প্রকাশ করলেও, রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে সক্ষম হয়নি। বৈঠকটির আলোচ্যসূচি সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পেন্টাগন কিংবা ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের পক্ষ থেকেও এই সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা-ও জানা যায়নি। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হেগসেথের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইসরাইলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
আগামী সপ্তাহে দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এটি ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু এই নির্বাচনে বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যদিও বিরোধী পক্ষও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড়ে বেশ বেগ পেতে পারে।
এই নির্বাচনের আগে গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো হতাশ করবেন না।’ তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজের পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন।
তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নিতে চান না। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘টু-ওয়ে’কে তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। আমি ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াচ্ছি না।’
ভ্যান্স আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি এমন নয় যে আমি তাকে সমর্থন করছি না, আবার তাকে সমর্থনও করছি না। আমি কেবল এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছি।’ উল্লেখ্য যে, এ বছরের শুরুর দিকে হাঙ্গেরির নির্বাচনে ভিক্টর অরবানকে সমর্থন দিয়েছিলেন ভ্যান্স, কিন্তু ইসরাইলের ক্ষেত্রে তিনি কৌশলগতভাবে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন।
রিপোর্টার নাম: 
























