Hi

১২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ২৬৫ জনের প্রাণহানি, উদ্ধার অভিযানে চলছে তীব্র লড়াই

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে। দেশটিতে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের প্রাণহানির আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনও খোঁজ মিলছে না প্রায় ৪৯৬ জন মানুষের। নিখোঁজ এই মানুষগুলোকে জীবিত উদ্ধার করতে ঘড়ি ধরে কাজ করে চলেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

গত সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ওই শক্তিশালী ভূকম্পনটি আঘাত হানে কলম্বিয়ার চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার অঞ্চলে। মাটির গভীর থেকে উৎসারিত এই কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। রাজধানী বোগোটার পাশাপাশি কালি, পেরেইরা, মানিজালেস এবং কিবদোর মতো প্রধান শহরগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। প্রধান সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান ভূকম্পনের পর থেকে অঞ্চলটিতে অন্তত ৭০টিরও বেশি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পরাঘাতের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪-এর ওপরে। এই ধারাবাহিক পরাঘাতগুলো উদ্ধারকর্মীদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ধসে পড়া বাড়িঘর ও বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে এই উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

কলম্বিয়ার রাজনীতিতে সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণকারী নতুন প্রশাসনের জন্য এই বিপর্যয় একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজের সার্বিক সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা এবং আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

এদিকে এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ যেমন মেক্সিকো এবং এল সালভাদরও উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই মানবিক সহায়তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

কুমিল্লায় ইয়াবাসহ আটক ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মারুফ আজীবন বহিষ্কৃত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কলম্বিয়ায় প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ২৬৫ জনের প্রাণহানি, উদ্ধার অভিযানে চলছে তীব্র লড়াই

আপডেট : ০৭:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে। দেশটিতে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের প্রাণহানির আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনও খোঁজ মিলছে না প্রায় ৪৯৬ জন মানুষের। নিখোঁজ এই মানুষগুলোকে জীবিত উদ্ধার করতে ঘড়ি ধরে কাজ করে চলেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

গত সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ওই শক্তিশালী ভূকম্পনটি আঘাত হানে কলম্বিয়ার চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার অঞ্চলে। মাটির গভীর থেকে উৎসারিত এই কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। রাজধানী বোগোটার পাশাপাশি কালি, পেরেইরা, মানিজালেস এবং কিবদোর মতো প্রধান শহরগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। প্রধান সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান ভূকম্পনের পর থেকে অঞ্চলটিতে অন্তত ৭০টিরও বেশি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পরাঘাতের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪-এর ওপরে। এই ধারাবাহিক পরাঘাতগুলো উদ্ধারকর্মীদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ধসে পড়া বাড়িঘর ও বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে এই উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

কলম্বিয়ার রাজনীতিতে সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণকারী নতুন প্রশাসনের জন্য এই বিপর্যয় একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজের সার্বিক সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা এবং আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

এদিকে এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ যেমন মেক্সিকো এবং এল সালভাদরও উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই মানবিক সহায়তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।