চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে আঘাত হানা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩ জন। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মূলত নদীর তীরবর্তী এলাকায় ক্যাম্পিং করছিলেন এবং ছুটির আনন্দ উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে গানসু প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। এর ফলে উপত্যকা ও পাহাড়ি নদীগুলোতে পানির প্রবাহ হঠাৎ করে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে উইকেন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে নদী তীরবর্তী মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে সাধারণ পর্যটক ও campers-রা সমবেত হন। সতর্কতা বার্তা সত্ত্বেও অনেকেই দুর্গম এলাকায় অবস্থান করছিলেন, যা এই মর্মান্তিক পরিণতির পথ প্রশস্ত করে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। তবে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। আহত ২৩ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চীনা কর্তৃপক্ষ পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে পর্যটক প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। গানসু প্রদেশের এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে প্রকৃতির কাছে মানুষের প্রস্তুতি কতটা সীমিত এবং অসাবধানতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 




















