Hi

০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা: চূড়ান্ত রায় ৯ জুলাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নির্বাচনী ফলাফল ও প্রার্থীতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। উক্ত আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রুল শুনানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে আগামী ৯ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করে নির্বাচন কমিশনকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এক আদেশে স্পষ্ট করে দেন যে, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেও আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত থাকবে। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল শুনানির নির্দেশ প্রদান করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রিট আবেদনকারী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন অংশ নেন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিচার বিভাগের স্বচ্ছতার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলে এই রায়ের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে, কারণ ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচনী ফলাফল বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের রায় চট্টগ্রাম-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করে অনন্য উচ্চতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা: চূড়ান্ত রায় ৯ জুলাই

আপডেট : ০৫:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নির্বাচনী ফলাফল ও প্রার্থীতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। উক্ত আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রুল শুনানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে আগামী ৯ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করে নির্বাচন কমিশনকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এক আদেশে স্পষ্ট করে দেন যে, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলেও আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত থাকবে। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল শুনানির নির্দেশ প্রদান করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রিট আবেদনকারী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন অংশ নেন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিচার বিভাগের স্বচ্ছতার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলে এই রায়ের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে, কারণ ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচনী ফলাফল বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের রায় চট্টগ্রাম-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।