Hi

০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: এলসি ও নথিপত্র এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি (পাইলট প্রজেক্ট) চালু করেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো এখন থেকে ঋণপত্র (এলসি) ও ডকুমেন্টারি কালেকশনের যাবতীয় নথিপত্র ইলেকট্রনিক উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক নির্দেশনায় এই নতুন ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ব্যাংকগুলোকে তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্যের মালিকানা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছেই থাকবে এবং কোনো পাবলিক বা শেয়ার্ড অবকাঠামোয় এটি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত ডিজিটাল নথিগুলোকে কাগজভিত্তিক দলিলের আইনগত বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যেসব ব্যাংকের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে, তাদের অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। আবেদনের সময় ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, অংশীজন, লেনদেনের প্রকৃতি এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। ইনভয়েস, বিল অব লেডিং বা পরিবহন দলিল এবং ড্রাফটসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র এখন থেকে ডিজিটাল এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ (অথেনটিকেশন) এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব দেশে এখনো ডিজিটাল দলিলের আইনগত স্বীকৃতি নেই, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত কাগজভিত্তিক নথিপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যয় ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করে অনন্য উচ্চতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: এলসি ও নথিপত্র এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে

আপডেট : ০৬:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি (পাইলট প্রজেক্ট) চালু করেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো এখন থেকে ঋণপত্র (এলসি) ও ডকুমেন্টারি কালেকশনের যাবতীয় নথিপত্র ইলেকট্রনিক উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক নির্দেশনায় এই নতুন ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ব্যাংকগুলোকে তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্যের মালিকানা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছেই থাকবে এবং কোনো পাবলিক বা শেয়ার্ড অবকাঠামোয় এটি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত ডিজিটাল নথিগুলোকে কাগজভিত্তিক দলিলের আইনগত বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যেসব ব্যাংকের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে, তাদের অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। আবেদনের সময় ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, অংশীজন, লেনদেনের প্রকৃতি এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। ইনভয়েস, বিল অব লেডিং বা পরিবহন দলিল এবং ড্রাফটসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র এখন থেকে ডিজিটাল এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ (অথেনটিকেশন) এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব দেশে এখনো ডিজিটাল দলিলের আইনগত স্বীকৃতি নেই, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত কাগজভিত্তিক নথিপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যয় ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।