Hi

০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প ও সম্ভাবনা

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে লোডশেডিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনজীবন এবং শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিকল্প শক্তির উৎসের অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ যখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, তখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি বর্গমিটার জমিতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌরশক্তি পাওয়া সম্ভব। যদিও সৌর প্যানেল স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তখন সৌর বিকিরণের তীব্রতাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যা এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ুশক্তি বা উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্টের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সমুদ্রের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অফশোর উইন্ডমিল স্থাপন করলে ভূমির তুলনায় অনেক বেশি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোতে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক শক্তি, ভূ-উত্তাপ বা জিওথার্মাল শক্তি এবং সাগরের তাপশক্তির রূপান্তর প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগই আসে গ্যাস এবং তরল জ্বালানি থেকে। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। শহরাঞ্চলের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ কেবল লোডশেডিংই কমাবে না, বরং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, যা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এক বড় সহায়ক শক্তি হবে।

জনপ্রিয়

জয়পুরহাটে মাদক মামলায় ইমরান হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প ও সম্ভাবনা

আপডেট : ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে লোডশেডিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনজীবন এবং শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিকল্প শক্তির উৎসের অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ যখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, তখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি বর্গমিটার জমিতে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌরশক্তি পাওয়া সম্ভব। যদিও সৌর প্যানেল স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তখন সৌর বিকিরণের তীব্রতাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যা এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ুশক্তি বা উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্টের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সমুদ্রের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অফশোর উইন্ডমিল স্থাপন করলে ভূমির তুলনায় অনেক বেশি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোতে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া পারমাণবিক শক্তি, ভূ-উত্তাপ বা জিওথার্মাল শক্তি এবং সাগরের তাপশক্তির রূপান্তর প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগই আসে গ্যাস এবং তরল জ্বালানি থেকে। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। শহরাঞ্চলের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ কেবল লোডশেডিংই কমাবে না, বরং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, যা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এক বড় সহায়ক শক্তি হবে।