Hi

০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সংযোজন ‘ওপেনক্লো’: ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

প্রযুক্তি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারী ‘ওপেনক্লো’ (OpenCllo) এবার আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবহারকারীরা এখন থেকে তাদের হাতের মুঠোয় এই এআই এজেন্টকে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মূলত দৈনন্দিন ডিজিটাল কাজের চাপ কমাতে এবং বার্তা আদান-প্রদানসহ চ্যানেল ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে এই নতুন অ্যাপটি।

ওপেনক্লো মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম, যা ব্যবহারকারীর হয়ে ই-মেইল যাচাই করা, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা শনাক্ত করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজিটাল যোগাযোগ সম্পন্ন করার মতো জটিল কাজগুলো করার সক্ষমতা রাখে। সফটওয়্যারটির রূপকার পিটার স্টেইনবার্গার, যিনি পরবর্তীতে ওপেনএআই-এর সাথে কাজ করেছেন, তিনি একে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন যাতে এটি ডিভাইসেই স্থানীয়ভাবে বা লোকালি পরিচালিত হতে পারে। এই অ্যাপটি শুরুর দিকে ‘মল্টবট’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্লডবট’ নামে পরিচিত ছিল। চলতি বছরের শুরুতে ‘মল্টবুক’ নামক একটি এআই-কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে আলোচনার সময় এই সফটওয়্যারটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই অ্যাপটির ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডিভাইসে এই এআই এজেন্টকে বিস্তৃত বা পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার (Full Access) দেওয়ার বিষয়টি গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কয়েক মাস আগেই ওপেনক্লোর সিস্টেমে একটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি বা বাগ শনাক্ত হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অ্যাপটি কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের অধিকাংশ তথ্য আদান-প্রদান করি। এমন পরিস্থিতিতে কোনো থার্ড-পার্টি এআই অ্যাপকে ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতিমালা (Privacy Policy) ও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ওপেনক্লো ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলি খুঁটিনাটি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অগ্রযাত্রায় একদিকে যেমন নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এখন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়ন: শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানি বাড়াল সরকার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মোবাইল প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সংযোজন ‘ওপেনক্লো’: ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট : ০৪:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারী ‘ওপেনক্লো’ (OpenCllo) এবার আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবহারকারীরা এখন থেকে তাদের হাতের মুঠোয় এই এআই এজেন্টকে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মূলত দৈনন্দিন ডিজিটাল কাজের চাপ কমাতে এবং বার্তা আদান-প্রদানসহ চ্যানেল ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে এই নতুন অ্যাপটি।

ওপেনক্লো মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম, যা ব্যবহারকারীর হয়ে ই-মেইল যাচাই করা, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা শনাক্ত করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজিটাল যোগাযোগ সম্পন্ন করার মতো জটিল কাজগুলো করার সক্ষমতা রাখে। সফটওয়্যারটির রূপকার পিটার স্টেইনবার্গার, যিনি পরবর্তীতে ওপেনএআই-এর সাথে কাজ করেছেন, তিনি একে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন যাতে এটি ডিভাইসেই স্থানীয়ভাবে বা লোকালি পরিচালিত হতে পারে। এই অ্যাপটি শুরুর দিকে ‘মল্টবট’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্লডবট’ নামে পরিচিত ছিল। চলতি বছরের শুরুতে ‘মল্টবুক’ নামক একটি এআই-কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে আলোচনার সময় এই সফটওয়্যারটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই অ্যাপটির ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডিভাইসে এই এআই এজেন্টকে বিস্তৃত বা পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার (Full Access) দেওয়ার বিষয়টি গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কয়েক মাস আগেই ওপেনক্লোর সিস্টেমে একটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি বা বাগ শনাক্ত হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অ্যাপটি কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের অধিকাংশ তথ্য আদান-প্রদান করি। এমন পরিস্থিতিতে কোনো থার্ড-পার্টি এআই অ্যাপকে ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতিমালা (Privacy Policy) ও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ওপেনক্লো ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলি খুঁটিনাটি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অগ্রযাত্রায় একদিকে যেমন নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এখন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।