Hi

০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে ১৯ কেজি সোনা উদ্ধার: নেপথ্যে কারা?

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ১৯ কেজি ওজনের সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা ফ্লাইটটিতে (বিজি-১৪৮) তল্লাশি চালিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল এই বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করে। উদ্ধারকৃত সোনার ওজন প্রায় ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল বিমানটির কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এ সময় কার্গো হোল্ডের ভেতর টেপ দিয়ে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৬০টি সোনার বার পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিমানটি দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে চট্টগ্রামে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত সোনার বারগুলো কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজ বা মালপত্রের সঙ্গে ছিল না, বরং বিমানের কার্গো হোল্ডে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্গো হোল্ডে এভাবে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় বিমানের ফ্লাইট থেকে সোনা উদ্ধার করা হলেও, কার্গো হোল্ডের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন চালান খুঁজে পাওয়া উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর নির্দেশনার পর বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের কোনো অসাধু চক্র বা কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

কেপ ভার্দেকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে ১৯ কেজি সোনা উদ্ধার: নেপথ্যে কারা?

আপডেট : ০৩:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ১৯ কেজি ওজনের সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা ফ্লাইটটিতে (বিজি-১৪৮) তল্লাশি চালিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল এই বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করে। উদ্ধারকৃত সোনার ওজন প্রায় ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল বিমানটির কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এ সময় কার্গো হোল্ডের ভেতর টেপ দিয়ে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৬০টি সোনার বার পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিমানটি দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে চট্টগ্রামে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত সোনার বারগুলো কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজ বা মালপত্রের সঙ্গে ছিল না, বরং বিমানের কার্গো হোল্ডে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্গো হোল্ডে এভাবে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় বিমানের ফ্লাইট থেকে সোনা উদ্ধার করা হলেও, কার্গো হোল্ডের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন চালান খুঁজে পাওয়া উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর নির্দেশনার পর বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের কোনো অসাধু চক্র বা কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।