Hi

০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল উত্তরণ সম্পন্ন করা নয়, বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তারা জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)-এর কাছে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ চেইনে বিঘ্নতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে এই বাড়তি সময়ের আবেদন করা হয়েছে। ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের এই যৌক্তিক অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং বিষয়টি এখন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) মাধ্যমে সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সেমিনারে বলেন, এই অতিরিক্ত সময় কোনোভাবেই উত্তরণ বিলম্বিত করার কৌশল নয়। বরং, বর্তমান সরকার ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। সরকার ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো ব্যবসা শুরুর সময়কাল এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনা, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত বিনিয়োগ ও উৎপাদনে যেতে পারেন।

সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের এই সংস্কার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা টেকসই উত্তরণের জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি পর্যায়ে গঠিত জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং পাবলিক-প্রাইভেট টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা করছে, এই বর্ধিত প্রস্তুতিকাল বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয়

কেপ ভার্দেকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট : ০৫:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল উত্তরণ সম্পন্ন করা নয়, বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তারা জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)-এর কাছে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ চেইনে বিঘ্নতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে এই বাড়তি সময়ের আবেদন করা হয়েছে। ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের এই যৌক্তিক অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং বিষয়টি এখন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) মাধ্যমে সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সেমিনারে বলেন, এই অতিরিক্ত সময় কোনোভাবেই উত্তরণ বিলম্বিত করার কৌশল নয়। বরং, বর্তমান সরকার ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। সরকার ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো ব্যবসা শুরুর সময়কাল এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনা, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত বিনিয়োগ ও উৎপাদনে যেতে পারেন।

সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের এই সংস্কার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা টেকসই উত্তরণের জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি পর্যায়ে গঠিত জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং পাবলিক-প্রাইভেট টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা করছে, এই বর্ধিত প্রস্তুতিকাল বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।