প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফল উদ্যোক্তা ভাবিন তুরাখিয়া। এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী মাইক্রোসফট অফিস এবং গুগল অ্যাপসের মতো জায়ান্টদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে তিনি তার নতুন উদ্যোগ ‘নিও’ (Neo) নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এই প্রকল্পে তিনি নিজের পকেট থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা তার উদ্ভাবনী সাহসের পরিচয় দেয়। ভাবিন তুরাখিয়া মূলত তার প্রযুক্তিগত দূরদর্শিতার জন্য পরিচিত এবং ‘নিও’ তার পঞ্চম বড় ব্যবসায়িক উদ্যোগ।
বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা অপরিসীম। মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তাদের স্যুইটে এআই যুক্ত করছে, ঠিক তখনই তুরাখিয়া ভিন্নধর্মী এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন। ‘নিও’-এর মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে এআই কেবল একটি সংযোজন নয়, বরং কাজের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি মূলত একটি এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজগুলোকে আরও স্মার্ট, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলবে। মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড, এক্সেল বা পাওয়ারপয়েন্টের মতো টুলগুলোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহারকারীদের কাছে একটি স্বয়ংক্রিয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়াই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভাবিন তুরাখিয়া তার বিগত চার ব্যবসায়িক যাত্রায় যেভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তাতে ‘নিও’ নিয়েও প্রত্যাশা অনেক বেশি। নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, তিনি এই সফটওয়্যারটির সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের বাজার নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানের জন্য যেখানে সাশ্রয়ী এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সফটওয়্যার প্রয়োজন, সেখানে ‘নিও’ একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
এই প্ল্যাটফর্মটি কীভাবে বিদ্যমান বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, তা নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। মাইক্রোসফট অফিসের দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত ব্যবহারকারীদের নতুন কোনো প্ল্যাটফর্মে সরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অত্যাধুনিক ব্যবহার যদি সাধারণ মানুষের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারে, তবে ‘নিও’ খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তুরাখিয়া তার এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রচলিত ধারায় আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। প্রযুক্তিপ্রেমী এবং বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এই নতুন প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ আত্মপ্রকাশের দিকে।
রিপোর্টার নাম: 






















