কুমিল্লা নগরীর বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম তার প্রয়াত স্বামীর রেখে যাওয়া একখণ্ড জমিতে সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি ছোট বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু, মাসে গড়ে নিহত ১৫০।
এর জন্য তিনি নিয়ম মেনে প্রকৌশলীর মাধ্যমে নকশা তৈরি করেছেন, প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছেন এবং সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপও করিয়েছেন।
কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও নকশার অনুমোদন না মেলায় ব্যাংক থেকে গৃহঋণ গ্রহণ করাও তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে তিনি এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ইরানকে ফের ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, বললেন ‘ঘুরে দাঁড়াতে ২৫ বছর সময় লাগতে পারে’।
শুধু মনোয়ারা বেগম নন, কুমিল্লা নগরীর এমন অনেক বাসিন্দা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) কাছে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় ফাইলবন্দি হয়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ওই সময় থেকে অনুমোদন কমিটির নিয়মিত সভা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। কুমিল্লায় ভবন নির্মাণের ১৫০০ নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কুসিক সূত্রে জানা যায়, ওই সভায় প্রায় ৩৫০টি ভবনের নকশা পর্যালোচনা করা হয় এবং এর মধ্যে ২০০টির অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি আবাসন খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নগরীতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৭০টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজারেরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রকল্পের কাজই স্থবির হয়ে আছে।
কুমিল্লার একটি আবাসন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মাজারুল ইসলাম রিপন জানান, অনুমোদনের অভাবে তাদের বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। এতে নগরবাসী ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। কুসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভুইয়া জানিয়েছেন, চলতি বছরের আগস্ট থেকে তারা ভবন নির্মাণের নতুন নকশার আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছেন। ফলে প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রশাসনিক পরিবর্তন। ২০১৪-১৫ সালে কুসিকের তৈরি করা খসড়া মহাপরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুডা) প্রতিষ্ঠার গেজেট প্রকাশের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত হয়। এখন কুডা নির্ধারিত এলাকার মধ্যে ভবন নকশা অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জানান, ২০১৪-১৫ সালে কুসিক একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা তৈরি করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।
কুডার সহকারী অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী শেরিফুল হক জানান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম কুডার অধীনে পরিচালিত হবে। কুসিকের কাছে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো হস্তান্তরের জন্য কুডা থেকে ইতিমধ্যে তিনটি চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশ-আফগানিস্তানে: জাতিসংঘ। যশোরে ভুল প্রশ্নে আইসিটি পরীক্ষা নেওয়ায় এইচএসসিতে ফেল ৩৮ শিক্ষার্থী, ‘দায় নেবে না’ বোর্ড।
এদিকে, কুডা ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৮ অক্টোবর কমিটির প্রথম সভায় ১৩টি নকশা উপস্থাপন করা হয় এবং তার মধ্যে ১১টি অনুমোদন পেয়েছে। কুডার চেয়ারম্যান উবাতুল বারী আবু বলেছেন, নগরবাসীকে ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের আওতায় নিয়ে আসা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভাঙা বাঁশের সাঁকোয় আটকা ৮ গ্রামের মানুষ।
রিপোর্টার নাম: 






















