Hi

১২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে হাওরের তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৩১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ২১ জন দেখেছে

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো থাকলেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ সব পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, আর অ্যানেসথেটিস্ট ও সার্জনের অভাবে অপারেশন থিয়েটারও কোনো কাজে আসছে না।

২০১৫ সালে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক; হাসপাতালের ৩৬টি অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন বা অ্যানেসথেসিয়ার মতো জরুরি বিভাগের কোনো জুনিয়র কনসালট্যান্ট সেখানে নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রেডিওলজিস্ট বা টেকনোলজিস্টের অভাবে তালাবদ্ধ থাকে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে প্রসূতিসেবার ক্ষেত্রে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ জন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য আসলেও সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্ট না থাকায় তাঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অসহায় রোগীদের তখন বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা বা মোহনগঞ্জে যেতে হচ্ছে, যেখানে যাতায়াত ও অস্ত্রোপচার বাবদ পরিবারগুলোকে বাড়তি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। হাওরের দরিদ্র প্রান্তিক মানুষের জন্য এই আর্থিক বোঝা অসহনীয়। একইসঙ্গে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায়।

সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি কিনলেও তা পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকবল নিয়োগের বিষয়ে বরাবরই উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বহুবার লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা জরুরি যে, শুধু দালান বা যন্ত্র থাকলেই সেবার মান বাড়ে না, তার পেছনে থাকা মানবসম্পদই মূল চালিকাশক্তি। আমরা অবিলম্বে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ এবং অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত করে হাওরবাসীর চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নোয়াখালীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের ষষ্ঠ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে হাওরের তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

আপডেট : ০৯:৩১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো থাকলেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ সব পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, আর অ্যানেসথেটিস্ট ও সার্জনের অভাবে অপারেশন থিয়েটারও কোনো কাজে আসছে না।

২০১৫ সালে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক; হাসপাতালের ৩৬টি অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন বা অ্যানেসথেসিয়ার মতো জরুরি বিভাগের কোনো জুনিয়র কনসালট্যান্ট সেখানে নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রেডিওলজিস্ট বা টেকনোলজিস্টের অভাবে তালাবদ্ধ থাকে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে প্রসূতিসেবার ক্ষেত্রে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ জন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য আসলেও সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্ট না থাকায় তাঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অসহায় রোগীদের তখন বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা বা মোহনগঞ্জে যেতে হচ্ছে, যেখানে যাতায়াত ও অস্ত্রোপচার বাবদ পরিবারগুলোকে বাড়তি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। হাওরের দরিদ্র প্রান্তিক মানুষের জন্য এই আর্থিক বোঝা অসহনীয়। একইসঙ্গে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায়।

সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি কিনলেও তা পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকবল নিয়োগের বিষয়ে বরাবরই উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বহুবার লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা জরুরি যে, শুধু দালান বা যন্ত্র থাকলেই সেবার মান বাড়ে না, তার পেছনে থাকা মানবসম্পদই মূল চালিকাশক্তি। আমরা অবিলম্বে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ এবং অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত করে হাওরবাসীর চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।