Hi

০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মহাপরিকল্পনা সরকারের

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

দেশের তরুণ সমাজকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের মূল কৌশলের একটি বড় অংশ হলো প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন ও উদীয়মান শ্রমবাজারগুলোতে দক্ষ কর্মী পাঠানো। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মপরিবেশ ও আইনি ব্যবস্থাপনার মান কঠোরভাবে যাচাই করে কর্মী পাঠাতে চায়, যাতে প্রবাসীরা কর্মক্ষেত্রে শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ পান। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সময়ে বৈদেশিক আয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নতুন উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত করা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। ইতালি, জার্মানি, গ্রিস ও রোমানিয়ার মতো ইউরোপের দেশগুলো ছাড়াও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকহারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে সরকার।

দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সারাদেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) বর্তমানে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, নার্সিং, কেয়ারগিভিং, আধুনিক ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল এবং হসপিটালিটিসহ ৫৫টি কারিগরি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, জার্মান ও আরবি ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং খরচ কমাতে সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অভিবাসন ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি ও বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। কর্মীদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিশ্বের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ সার্টিফিকেশন ও স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তরুণ ও যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানায়, ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে। বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা জিরো-কস্ট মডেলে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বোয়েসেল। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো-কস্ট) ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ পাইলট কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

জাপানের সাথে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বা এসএসডব্লিউ চুক্তির আওতায় বয়স্কদের সেবা, নির্মাণ ও কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন।

ইউরোপের বাজারে জনশক্তি পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর ‘সাপোর্টিং আ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ শীর্ষক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম চলছে।

বোয়েসেল ও বিএমইটি এর সমন্বিত অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবহার করে ইউরোপীয় নিয়োগদাতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া ইতালির অর্থায়নে প্রাক-প্রস্থান ওরিয়েন্টেশন ও ভাষা শিক্ষা প্রকল্প চালু হয়েছে, যা কর্মীদের সরাসরি ভিসা পেতে সহায়তা করবে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্স ও কেয়ারগিভারদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জার্মানির ‘চান্সেনকার্টে’ বা অপরচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে আইটি পেশাজীবীরা দেশটিতে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন।

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতেও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের চাহিদা বাড়ছে। ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মৌসুমি কাজের কোটা রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউরেশিয়ায় পোশাক শিল্পে এবং মালদ্বীপ ও সেশেলসে পর্যটন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা দেখা যাচ্ছে।

কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল ‘মাইগ্র্যান্ট কার্ড’ চালু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমা সুবিধা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি পাঠানোর এই ধারা বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্তের দাবি জানালেন বাবা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিশ্ব শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মহাপরিকল্পনা সরকারের

আপডেট : ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের তরুণ সমাজকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের মূল কৌশলের একটি বড় অংশ হলো প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন ও উদীয়মান শ্রমবাজারগুলোতে দক্ষ কর্মী পাঠানো। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মপরিবেশ ও আইনি ব্যবস্থাপনার মান কঠোরভাবে যাচাই করে কর্মী পাঠাতে চায়, যাতে প্রবাসীরা কর্মক্ষেত্রে শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ পান। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সময়ে বৈদেশিক আয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নতুন উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত করা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। ইতালি, জার্মানি, গ্রিস ও রোমানিয়ার মতো ইউরোপের দেশগুলো ছাড়াও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকহারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে সরকার।

দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সারাদেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) বর্তমানে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, নার্সিং, কেয়ারগিভিং, আধুনিক ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল এবং হসপিটালিটিসহ ৫৫টি কারিগরি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, জার্মান ও আরবি ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং খরচ কমাতে সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অভিবাসন ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি ও বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। কর্মীদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিশ্বের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ সার্টিফিকেশন ও স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তরুণ ও যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানায়, ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে। বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা জিরো-কস্ট মডেলে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বোয়েসেল। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো-কস্ট) ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ পাইলট কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

জাপানের সাথে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বা এসএসডব্লিউ চুক্তির আওতায় বয়স্কদের সেবা, নির্মাণ ও কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন।

ইউরোপের বাজারে জনশক্তি পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর ‘সাপোর্টিং আ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ শীর্ষক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম চলছে।

বোয়েসেল ও বিএমইটি এর সমন্বিত অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবহার করে ইউরোপীয় নিয়োগদাতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া ইতালির অর্থায়নে প্রাক-প্রস্থান ওরিয়েন্টেশন ও ভাষা শিক্ষা প্রকল্প চালু হয়েছে, যা কর্মীদের সরাসরি ভিসা পেতে সহায়তা করবে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নার্স ও কেয়ারগিভারদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জার্মানির ‘চান্সেনকার্টে’ বা অপরচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে আইটি পেশাজীবীরা দেশটিতে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন।

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতেও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের চাহিদা বাড়ছে। ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মৌসুমি কাজের কোটা রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউরেশিয়ায় পোশাক শিল্পে এবং মালদ্বীপ ও সেশেলসে পর্যটন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা দেখা যাচ্ছে।

কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল ‘মাইগ্র্যান্ট কার্ড’ চালু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমা সুবিধা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি পাঠানোর এই ধারা বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।