Hi

০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছরে ৯ গিনেস রেকর্ডধারী ভারতীয় বিস্ময়বালক আরিয়ান শুক্লা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:২৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন ভারতীয় কিশোর আরিয়ান শুক্লা। মানসিক গণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি এখন বিশ্বজুড়ে ‘মানব ক্যালকুলেটর’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তার ঝুলিতে রয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের নয়টি খেতাব এবং মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপের দুটি শিরোপা। মহারাষ্ট্রের নাশিকের এই কিশোরের গণিতচর্চার শুরু মাত্র ছয় বছর বয়সে, আর দেড় বছরের মধ্যেই তার অবিশ্বাস্য মেধাশক্তি মা-বাবার নজরে আসে। প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও মানুষের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ যে গুরুত্বপূর্ণ, আরিয়ানের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

আরিয়ানের আন্তর্জাতিক সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে।

মাত্র আট বছর বয়সে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত মেমোরিয়াড ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে সাতটি স্বর্ণসহ মোট ১০টি পদক জিতে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। সেই আসরেই শিশুদের বিভাগে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিজের প্রতিভার জানান দেন আরিয়ান। এরপর ২০২২ সালের জুলাইয়ে জার্মানির পাদেরবর্নে অনুষ্ঠিত মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপে ১২ বছর বয়সে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০২৪ সালেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা ধরে রাখেন এই কিশোর। ওই প্রতিযোগিতায় ৯০০ পয়েন্টের মধ্যে ৮১৯ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে যোগ, গুণ ও বর্গমূলসহ মোট ছয়টি বিভাগেই ট্রফি জিতেছিলেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় আরিয়ানের নাম যুক্ত হওয়া শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতালির একটি টিভি অনুষ্ঠানে মাত্র ২৫ দশমিক ১৯ সেকেন্ডে পাঁচ অঙ্কের ৫০টি সংখ্যা মনে মনে যোগ করে প্রথম বিশ্বরেকর্ডটি গড়েন। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ে মাত্র এক দিনে দ্রুততম সময়ে বড় সংখ্যার যোগ, গুণ ও ভাগের হিসাব করে আরও ছয়টি বিশ্বরেকর্ড নিজের দখলে নেন। সবশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে আরও দুটি রেকর্ড গড়েন তিনি। সেখানে ১০টি আট অঙ্কের সংখ্যার বর্গমূল নির্ণয় করতে আরিয়ানের সময় লেগেছে মাত্র ৭১ দশমিক ২২ সেকেন্ড এবং ১০ অঙ্কের সংখ্যাকে পাঁচ অঙ্কের সংখ্যা দিয়ে ১০টি ভাগ করতে সময় নিয়েছেন মাত্র ২৮ দশমিক ৮১ সেকেন্ড।

শিক্ষাজীবনেও দারুণ সফল আরিয়ান। নাশিকের দিল্লি পাবলিক স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছেন। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি নিয়েও রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। এছাড়া ২০২৫ সালে গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেশন লিগের তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন তিনি।

ছেলের সাফল্যের নেপথ্যে পরিবারের অবদানের কথা বলতে গিয়ে বাবা নিতিন শুক্লা জানান, তারা কখনোই আরিয়ানের ওপর ফলাফলের চাপ সৃষ্টি করেননি। তার আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, যেন নিজের প্রতিভা বিকাশে কোনো বাধা না আসে। বর্তমানে আরিয়ান শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না, বরং গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মানসিক গণনায় উৎসাহিত করছেন। অনুশীলনের মাধ্যমে গণিতের ভয় জয় করা সম্ভব—এই বিশ্বাসই আরিয়ানকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল সন্তানের ওপর নিজেদের স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

সিটি করপোরেশনে ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

১৬ বছরে ৯ গিনেস রেকর্ডধারী ভারতীয় বিস্ময়বালক আরিয়ান শুক্লা

আপডেট : ১২:২৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন ভারতীয় কিশোর আরিয়ান শুক্লা। মানসিক গণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি এখন বিশ্বজুড়ে ‘মানব ক্যালকুলেটর’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তার ঝুলিতে রয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের নয়টি খেতাব এবং মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপের দুটি শিরোপা। মহারাষ্ট্রের নাশিকের এই কিশোরের গণিতচর্চার শুরু মাত্র ছয় বছর বয়সে, আর দেড় বছরের মধ্যেই তার অবিশ্বাস্য মেধাশক্তি মা-বাবার নজরে আসে। প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও মানুষের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ যে গুরুত্বপূর্ণ, আরিয়ানের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

আরিয়ানের আন্তর্জাতিক সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে।

মাত্র আট বছর বয়সে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত মেমোরিয়াড ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে সাতটি স্বর্ণসহ মোট ১০টি পদক জিতে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। সেই আসরেই শিশুদের বিভাগে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিজের প্রতিভার জানান দেন আরিয়ান। এরপর ২০২২ সালের জুলাইয়ে জার্মানির পাদেরবর্নে অনুষ্ঠিত মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপে ১২ বছর বয়সে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০২৪ সালেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা ধরে রাখেন এই কিশোর। ওই প্রতিযোগিতায় ৯০০ পয়েন্টের মধ্যে ৮১৯ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে যোগ, গুণ ও বর্গমূলসহ মোট ছয়টি বিভাগেই ট্রফি জিতেছিলেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় আরিয়ানের নাম যুক্ত হওয়া শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতালির একটি টিভি অনুষ্ঠানে মাত্র ২৫ দশমিক ১৯ সেকেন্ডে পাঁচ অঙ্কের ৫০টি সংখ্যা মনে মনে যোগ করে প্রথম বিশ্বরেকর্ডটি গড়েন। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ে মাত্র এক দিনে দ্রুততম সময়ে বড় সংখ্যার যোগ, গুণ ও ভাগের হিসাব করে আরও ছয়টি বিশ্বরেকর্ড নিজের দখলে নেন। সবশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে আরও দুটি রেকর্ড গড়েন তিনি। সেখানে ১০টি আট অঙ্কের সংখ্যার বর্গমূল নির্ণয় করতে আরিয়ানের সময় লেগেছে মাত্র ৭১ দশমিক ২২ সেকেন্ড এবং ১০ অঙ্কের সংখ্যাকে পাঁচ অঙ্কের সংখ্যা দিয়ে ১০টি ভাগ করতে সময় নিয়েছেন মাত্র ২৮ দশমিক ৮১ সেকেন্ড।

শিক্ষাজীবনেও দারুণ সফল আরিয়ান। নাশিকের দিল্লি পাবলিক স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছেন। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি নিয়েও রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। এছাড়া ২০২৫ সালে গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেশন লিগের তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন তিনি।

ছেলের সাফল্যের নেপথ্যে পরিবারের অবদানের কথা বলতে গিয়ে বাবা নিতিন শুক্লা জানান, তারা কখনোই আরিয়ানের ওপর ফলাফলের চাপ সৃষ্টি করেননি। তার আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, যেন নিজের প্রতিভা বিকাশে কোনো বাধা না আসে। বর্তমানে আরিয়ান শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না, বরং গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মানসিক গণনায় উৎসাহিত করছেন। অনুশীলনের মাধ্যমে গণিতের ভয় জয় করা সম্ভব—এই বিশ্বাসই আরিয়ানকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল সন্তানের ওপর নিজেদের স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।